সিরাজদিখানে আলু নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

সালাহউদ্দিন সালমান
দেশের সর্ববৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জ। অধিক লাভের আশায় জেলার সিরাজদিখানের জমিতে ব্যাপক আলুর চাষ করেছেন কৃষকরা।

বর্তমানে আলুর জমিতে চলছে পরিচর্যার কাজ। ভালো ফলন ও সঠিক মূল্য পেলে এবার খরচ বাদে বিঘা প্রতি জমিতে মোটা অংকের টাকা লাভের আশা করছেন তারা। যদিও ঘন কুয়াশা ও হঠাৎ কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আলুতে কিছু রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ইতোমধ্যে যে বৃষ্টি হয়েছে সেটা আলুর জন্য বিশাল রহমত। এই বৃষ্টিতে আলুর কোন ক্ষতি হবেনা বরং আলু চাষিরা লাভবান হবে।

উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নে কয়েক দফা নতুন আলু তুলে বাজারজাত করে ফেলেছে ইতোমধ্যে, তবে পুরোদমে আলু উত্তোলন হতে এখনো কিছু সময় বাকী। সুতরাং এখন উপজেলার কৃষি জমির আলু খেত জুড়ে চলছে আলুর পরিচর্যার মহা ব্যস্ততা।

সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানাযায়, এবার উপজেলায় আলু আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ২ শ’ হেক্টর জমিতে। শীতে এবার আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষেতে কাজ করছেন চাষিরা। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ টপ ড্রেসিং (আলু গাছের সারিতে মাটি তুলে দেয়া ও সরিয়ে দেয়ার কাজ) করছেন। আবার কেউ দিচ্ছেন রাসায়নিক সার। কেউ বা ছত্রাক, রোগ-বালাই ও ঘন কুয়াশার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কীটনাশক স্প্রে করছেন।

আলুর নাম মুখে আসলেই বিক্রমপুরের আলুর নাম মুখে আসে সবার আগে। বিক্রমপুরের আলুর ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং সিরাজদিখানে ভালো আলু ও আয়ের আশায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ কৃষকই এখন আলু পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। গত কয়েক বছরে আলু চাষে লোকসানে অনেক চাষিকে সর্বস্বান্ত করে দিলেও তারা আবারো নবউদ্যমে নতুন মৌসুমের শুরুতে নতুন স্বপ্ন নিয়ে আলু চাষ করছেন।

জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে অনেকটাই সিরাজদিখানে আলুর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে উপজেলার একটানা কয়েক বছর একাধিকবার আলুর বাম্পার ফলনের পরেও লাভের মুখ দেখেননি কৃষকরা।

মধ্যস্বত্বভোগী মজুদদার ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও গত কয়েক বছর ঘটেছে এর ব্যতিক্রম।বাজারে আলুর ব্যাপক দরপতনে মূলধন হারিয়েছেন মধ্যস্বত্বভোগীসহ এ অঞ্চলের অনেক কৃষক। তার পরেও অন্য কোনো ফসল উৎপাদন করতে না পারায় আলুচাষই করে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামের আলু চাষি মোঃ নূর ইসলাম বলেন, আলু গাছ এখন পর্যন্ত ভাল আছে তবে কুয়াশা বেশী কুয়াশা পড়লে আলু গাছে জটলা বাদবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর আলুর গাছ ভাল হয়েছে এবং রয়েছে। এবার আলু রোপন করা হয়েছেব ৯ হাজার ২ শ’ হেক্টর জমিতে।