উপাচার্যদের সচেতন হতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর সেখানকার উপাচার্যদের বিরুদ্ধে যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তবে তা মোটেই সুখকর নয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের আরও সচেতন হতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আচার্য এ আহবান জানান।

আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা নিজেরাই যদি অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী হবে- তা ভেবে দেখবেন। একইসঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইন মেনে চলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় শিক্ষকদের সান্ধ্যকালীন কোর্স ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার সমালোচনা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এক শ্রেণির শিক্ষক রয়েছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। অনেক সময় সান্ধ্যকালীন কোর্স ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে সপ্তাহব্যাপী অতি ব্যস্ত সময় কাটান। এ সমস্ত কাজ কর্মে তারা খুবই আন্তরিক।

আচার্য বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে যত অনীহা। তবে এসব শিক্ষকরা সিলেবাস শেষ করার ব্যাপারেও খুবই সিরিয়াস। তাই তারা একসঙ্গে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা একটানা ক্লাস নেন।

এমনকি ছুটির দিনেও ছাত্র-ছাত্রীদের ডেকে একসাথে কয়েক ঘণ্টা ক্লাস নেন। ছাত্র-ছাত্রীরা কতটুকু বুঝল বা কতটুকু গ্রহণ করতে পারলো, সে ব্যাপারে তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব বা মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর প্রথম সমাবর্তন করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। সমাবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা আন্দোলনের পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সমাবর্তন আয়োজনে কমিটি গঠন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সমাবর্তনের জন্য ২০১৯ সালের ১ মার্চ থেকে নিবন্ধন শুরু হয়।

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরুর পর প্রথম সমাবর্তন হওয়ায় এবার বিপুল সংখ্যক সাবেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন।

৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের ১৮ হাজার ৩১৭ জন নিবন্ধিত সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার ৮৭৭ জন স্নাতক, ৪ হাজার ৮২৯ জন স্নাতকোত্তর, ১১ জন এমফিল, ৬ জন পিএইচডি এবং ১ হাজার ৫৭৪ জন সান্ধ্যকালীন কোর্সের সনদ নেবেন।

পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধুপখোলায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ওই সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তব্য রাখেন এমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান।