চাঁদা না দেয়ায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম

বাংলাবাজার পত্রিকা
বগুড়া: বগুড়ার বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজীর মহোৎসব। যানবাহনগুলোতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী চললেও এ বিষয়ে যেন দেখার কেউ নেই।

এবার বগুড়ার নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যন্ডে দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রাজু আহমেদ নামে এক ট্রাকচালককে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজরা।

নন্দিগ্রামে শনিবার এ ঘটনা সংঘটিত হয়। এরপর থেকে ট্রাকচালকদের মধ্য তীব্র ক্ষোভ-উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, নন্দীগ্রাম পৌর শহরের রাস্তাঘাটে টোল আদায়ের জন্য প্রভাবশালী সাজ্জাদ হোসেন ঝিনুকের অনুকুলে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জন্য ৮ লাখ ১১ হাজার টাকায় ইজারা দেয় পৌরসভা।

সরকারি নিয়মে ইজারা গ্রহনের নিয়মানুযায়ী মহাসড়কে চলাচলরত কোন যানবাহন থেকে টোল আদায়ের কোন বিধান না থাকলেও নন্দিগ্রামে অহরহ সড়কে চাঁদাবাজি চলছেই।

অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদার সাজ্জাদ হোসেন ঝিনুক তার লোকজন দিয়ে সরকারি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে চলাচলরত ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান থেকে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে নাটোর থেকে ছেড়ে আসা আসা বগুড়াগামী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ড ১২-১৫৬৬) নন্দিগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে টোল আদায়ের নামে সেখানে ট্রাকটির গতিরোধ করা হয়। এরপর ট্রাকচালকের কাছে ৩০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

এ সময় ট্রাক চালক রাজু আহমেদ অপারগতা প্রকাশ করে চাঁদা দাবির কারণ জানতে চাইলে ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে ইজারাদারের লোকজন হকি স্টিক, লাঠি সোটা দিয়ে ট্রাকচালক রাজুকে বেধড়ক পিটিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

আহত ট্রাক চালক রাজু আহমেদ বাংলাবাজার পত্রিকার এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, আমি বিষয়টি কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, মহাসড়কে টোল আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। ইজারাদার সরকারি নিয়ম নীতি এবং সকল শর্ত ভঙ্গ করে তারা টোল আদায় করছেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, আহত ট্রাক চালক মৌখিকভাবে আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে নিয়মিত মামলা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ইজারাদার সাজ্জাদ হোসেন ঝিনুকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।