বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

ফুটপাতে ‘স্টকলট ও রিজেক্ট’ পণ্যে স্বস্তি খুঁজছে স্বল্প আয়ের মানুষ!

ফুটপাতে ‘স্টকলট ও রিজেক্ট’ পণ্যে স্বস্তি খুঁজছে স্বল্প আয়ের মানুষ!

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বিশেষ করে মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পোশাক বিক্রি। স্বল্প আয়ের মানুষ কম দামে ঈদের পোশাক কিনতে ভিড় করছেন এসব দোকানে। আর এই বাজারের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ‘স্টকলট’ ও ‘রিজেক্ট’ পোশাক, যেগুলো তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।

মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকায় দেখা যায়, ফুটপাতের সারি সারি অস্থায়ী দোকানে সাজানো রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাক এবং বিভিন্ন ধরনের জুতা-স্যান্ডেল। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের জন্য একসঙ্গে কয়েকটি পোশাক কিনছেন। অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে রাজধানীর অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফুটপাতের এই বাজারই হয়ে উঠেছে ঈদের কেনাকাটার প্রধান ভরসা। শপিংমল বা বড় দোকানের তুলনায় অনেক কম দামে পোশাক পাওয়ায় মানুষ এসব দোকানের দিকে ঝুঁকছেন।

মতিঝিলের পূবালী ব্যাংকের সামনে ফুটপাতে বিপুল পাঞ্জাবির সমাহার। ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় মিলছে এসব পাঞ্জাবি। যেগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন নামি দামি ব্র্যান্ডের স্টিকার। বিক্রেতারাও হাঁক ডাক দিয়ে বিক্রি করছেন পাঞ্জাবি। ক্রেতারাও যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন এই এলাকায়।


বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব পণ্যের বড় একটি অংশই তৈরি পোশাক কারখানার ‘স্টকলট’ বা ‘রিজেক্ট’ হিসেবে পরিচিত। স্টকলট বলতে সাধারণত এমন পোশাক বোঝানো হয়, যেগুলো বিদেশে রফতানির জন্য তৈরি হলেও অতিরিক্ত উৎপাদন বা অর্ডার বাতিল হওয়ায় দেশে থেকে যায়। অন্যদিকে রিজেক্ট পণ্য হলো সেই পোশাক, যেগুলোতে সামান্য ত্রুটি থাকায় বিদেশে পাঠানো হয়নি। এসব ত্রুটি অনেক সময় এতটাই ছোট হয় যে, সাধারণ ক্রেতার চোখে পড়ে না।

ফুটপাতের দোকানগুলোতে শুধু পুরুষদের পোশাক নয়, নারীদের থ্রি-পিস, ওড়না, লেগিংস এবং শিশুদের বিভিন্ন ধরনের পোশাকও বিক্রি হচ্ছে। ছোটদের ফ্রক, শার্ট-প্যান্ট সেট, জিন্সসহ নানা ধরনের পোশাকের দাম ২০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। ক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন, তিনি বলেন, আমার বেতন খুব বেশি না। শপিংমল থেকে সবাইকে ঈদের কাপড় কিনে দেওয়া সম্ভব না। তাই প্রতি বছরই ফুটপাত থেকে কিনি। এখানে কম দামে মোটামুটি ভালো পোশাক পাওয়া যায়। এবার তিনি নিজের জন্য একটি শার্ট এবং ছেলের জন্য একটি প্যান্ট কিনেছেন। সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা।


তবে ফুটপাতের এসব পণ্য নিয়ে কিছু অভিযোগও রয়েছে। অনেক সময় ক্রেতারা অভিযোগ করেন, কিছু পোশাক ধোয়ার পর রং উঠে যায় বা কাপড়ের মান ভালো থাকে না। তবু কম দামের কারণে অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই এসব পোশাক কিনে থাকেন। ফুটপাতের বাজারে দরদামও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক দোকানে নির্দিষ্ট দাম থাকলেও বেশির ভাগ জায়গায় দরদাম করে পোশাক কেনা যায়। ক্রেতারা কয়েকটি দোকান ঘুরে দাম তুলনা করে তারপর কেনাকাটা করেন।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন