মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আজ যেন এক রূপকথার গল্প লিখল বাংলাদেশ। কেননা পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিং আর তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ১১৪ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৫ ওভার ১ বলেই জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা বলের হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।
এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিল ২০১৫ সালে, যেখানে লক্ষ্য তাড়া করতে ৩৯.৩ ওভার সময় লেগেছিল। আজ সেই রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন শান্ত-তামিমরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। মূলত তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাক ব্যাটাররা। মাত্র ২৪ রান খরচায় একাই ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’।
ইনিংসের শুরুটা পাকিস্তানের জন্য মোটামুটি হলেও সপ্তম ওভার থেকে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বল তুলে দেন নাহিদ রানার হাতে। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলেই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে (২৭) ফিরিয়ে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন নাহিদ। এরপর শুরু হয় তার একক আধিপত্য। নিজের পরের চার ওভারের প্রতিটিতেই উইকেটের দেখা পান এই ডানহাতি পেসার। একে একে সাজঘরে ফেরান শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে।
নাহিদের তোপের পর স্পিন ঘূর্ণিতে যোগ দেন অধিনায়ক মিরাজ। তিনি শিকার করেন আব্দুল সামাদ, হোসাইন তালাত ও শাহিন আফ্রিদির উইকেট। মাঝে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতায় নাম লেখান তাসকিন আহমেদও। ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশর আগে অলআউটের শঙ্কায় পড়লেও শেষ উইকেটে ফাহিম আশরাফের লড়াকু ৩৭ রান পাকিস্তানকে কোনোমতে ১১৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়। নাহিদ একাই ধসিয়ে দেন পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার।
১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানকে (৪) হারায় বাংলাদেশ। তবে তাতে রান তোলার গতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারেই বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮১ রান। তামিম তার ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ৩২ বলে। শেষ পর্যন্ত ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যপ্রান্তে নাজমুল হোসেন শান্ত ধীরস্থির ব্যাটিং করে তামিমকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















