শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

কথায় কথায় বিরক্তি, মেজাজ গরম? কোন ভিটামিনের অভাবে এমন হয়

কথায় কথায় বিরক্তি, মেজাজ গরম? কোন ভিটামিনের অভাবে এমন হয়

কারো কথা অপছন্দ হলো। চাইলেই এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তা করলেন না। প্রচণ্ড বিরক্ত হলেন। মেজাজ হারিয়ে ফেললেন এবং সেই অনুভূতি প্রকাশও করে ফেললেন। হয়তো স্বভাববিরুদ্ধ ভঙ্গিতে চিৎকারও করে ফেললেন। এমন পরিস্থিতির জন্য হয়তো দায়ী করবেন মানসিক চাপকে। কিন্তু শারীরিক কারণেও এমনটা হতে পারে। 


শরীরে কিছু বিশেষ পুষ্টির অভাব হলে অল্পেই মাথাগরম, অতিরিক্ত বিরক্তি, রেগে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, চিৎকার চেঁচামেচি করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি বলা হয়। এর জন্য যেমন অতিরিক্ত মানসিক চাপ দায়ী হতে পারে, তেমনই পুষ্টির অভাবেও এমনটা ঘটতে পারে। বিশেষ করে কিছু ভিটামিন এবং খনিজের অভাব হলে মস্তিষ্কের ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ বা রাসায়নিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ফলে খিটখিটে মেজাজ বা সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি দেখা দিতে পারে।


কোন কোন পুষ্টির অভাবে এমন হতে পারে?

ম্যাগনেসিয়াম

শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এক খনিজ ম্যাগনেসিয়াম। একে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক ট্র্যাঙ্কুলাইজার’। অর্থাৎ এমন ওষুধ যা উদ্বেগ বা উত্তেজনা প্রশমনে কাজে লাগে। শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়বে। অনিদ্রা এবং মাত্রা ছাড়া রাগও দেখা দিতে পারে। পালংশাক, কুমড়োর বীজ, কাজু বাদাম, ডার্ক চকলেট— ইত্যাদি শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব মেটাতে পারবে।


ভিটামিন বি কমপ্লেক্স

বিশেষ করে বি১২, বি৬, বি৯ ‘সেরোটোনিন’ বা সুখী হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। এর অভাব হলে মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। ডিম, দুধ, মাংস, সবুজ শাকসবজি, ডালে এই ধরনের ভিটামিন থাকে।



ভিটামিন ডি

এই ভিটামিনকে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’। সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায় বলে তো বটেই। মনমেজাজকেও ঝলমলে রোদের মতো রাখতে কাজ করে ভিটামিন ডি। এর অভাবে বিষণ্ণতা আসতে পারে। ঘনঘন মেজাজ পরিবর্তনও হতে পারে। সূর্যের আলো ছাড়া চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুমে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।


জিঙ্ক

মস্তিষ্কের সঙ্কেত আদান-প্রদানে জিঙ্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এর অভাব হলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না শরীরের কোথায় কী ঘটছে। এতে খিটখিটে ভাব বাড়ে। পাশাপাশি বাড়ে ক্লান্তিও। কুমড়োর বীজ, সামুদ্রিক মাছ, রেড মিট, দানাশস্য জিঙ্কের উৎস। 



ওমেগা ৩

এই উপাদানটি মস্তিষ্কের কোষের সুরক্ষায় এর অভাব হলে খিটখিটে ভাব বাড়ে। সামুদ্রিক মাছ বা বেশি চর্বিযুক্ত মাছ যেমন— ইলিশ, কাতলা, মাগুর খেতে পারেন। এছাড়া খাদ্যতালিকায় রাখুন তিল, তিসি, আখরোটও। 


আয়রন

রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাবে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা বিরক্তিবোধ তৈরি করতে পারে। ডুমুর, থানকুনি পাতা, থোড়, মোচা, বিভিন্ন ধরনের শাক, বেদানায় আয়রন থাকে ভরপুর।


সমস্যা সমাধানে করণীয় 



রক্ত পরীক্ষা করা

আন্দাজে ভিটামিন বা খনিজ সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট বা বিকল্প ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে দেখুন শরীরে ভিটামিন ডি, বি১২ বা আয়রন উপযুক্ত পরিমাণে আছে কি না। এতে নিশ্চিত হওয়া যাবে, ঠিক কোনটির অভাব আছে শরীরে। সঠিক তথ্য হাতে জানা থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতেও সুবিধা হবে।


সঠিক ডায়েট

প্রতিদিনের খাবারে রঙিন সবজি, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যেমন বাদাম বা ঘি রাখুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার বা অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন, কারণ চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়, এর প্রভাবও পড়তে পারে মন-মেজাজে।


পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান

ডিহাইড্রেশন বা পানির অভাব এবং ঘুমের ঘাটতি ইরিটেবিলিটির অন্যতম প্রধান কারণ। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।


সূর্যের আলো

প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান, যা প্রাকৃতিক উপায়ে ভিটামিন ডি-এর জোগান দেবে।



মনে রাখা জরুরি

যদি ভালো খাবার আর ভালো ঘুমের পরেও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেহেতু ‘সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি’-র আরও একটি কারণ মানসিক চাপ, সেক্ষেত্রে সেদিকটিও ভেবে দেখতে হবে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন