রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

ঢাকায় মুলার কেজি ২০ টাকা, বগুড়ায় ১ টাকা

প্রতীকী ছবি

রাজধানীতে শীতকালীন সবজি মুলা কেজি প্রতি ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এই একই সবজি প্রতি কেজি মাত্র একটাকা বিক্রি করছেন বগুড়ার কৃষকরা। আদমদীঘি উপজেলায় পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি মুলা ১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবুও মিলছে না ক্রেতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাষিরা।

বিক্রির টাকায় শ্রমিকের মূল্যও উঠবে না ভেবে জমি থেকেই মুলা তুলে ফেলে দিচ্ছেন অনেকে। অথচ ঢাকায় সেই ১ টাকার মুলাই বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। এ টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

কৃষি সমপ্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে ৩১৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এবার ৩২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে শাকসবজির দাম কিছুটা বেশি থাকলেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় কমেছে দাম। এখানকার শাকসবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের দূর্গাপুর মাঠে মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মণ মুলা তুলে ফেলা দেয়া হচ্ছে। এসব মুলার জমিতে এখন অন্য ফসল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।

নাদিরা বেগম নামে এক মুলা চাষি বলেন, এবার ১৫ শতাংশ জমিতে মুলার আবাদ করেছিলাম। বাজারে দাম না থাকায় এবং দাগের কারণে জমি থেকে নিজেই মুলাগুলো তুলে ফেলে দিচ্ছি।

দেলোয়ার হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, কয়েক মণ মুলা হাটে নিয়ে বিপদে পড়ি। এক টাকা দরেও মুলা বিক্রি করতে পারিনি। এবার মুলা চাষ করে ধরা খেয়েছি। এজন্য মুলা ফেলে দিয়ে ওই জমিতেই অন্য শাকসবজি চাষ করবো।

মুলা ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ও সোহেল রানা জানান, শুরুর দিকে আশানুরূপ দাম পেলেও মুলার বাজারমূল্যে দ্রুত ধস নেমেছে। শুরুর দিকে আড়াই হাজার টাকা মণ থাকলেও এখন ৪০ টাকা মণ দরে মুলা বিক্রি করতে হচ্ছে।

এছাড়া হাটে প্রচুর মুলার আমদানি হয়েছে। তাই দাম কম। ফলে মুলা নিয়ে হাটে এসে ক্রেতার অভাবে বসে থাকতে হয়। কেউ দামই করছেন না। এ কারণে কৃষকের লাভ তো দূরের কথা খরচও উঠছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আবহওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে গেছে। এবার অন্য সবজির সঙ্গে চাষিরা একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ মুলাও চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হওয়ায় হাট-বাজারে আমদানি বেশি। তাই দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে।

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ নবীন