শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪

জাতীয় পার্টিতে গণপদত্যাগ

জাতীয় পার্টিতে গণপদত্যাগ

❏ জিএম কাদের ও চুন্নুর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে দল থেকে ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬৭১ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন জাপার ঢাকা মহানগর উত্তরের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম পাঠান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন পূর্বাপর জাতীয় পার্টির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন। জাতীয় পার্টিতে বর্তমানে যিনি চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত আছেন-সেই জিএম কাদের এক বছর আগে থেকেই বলে আসছেন, জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। সেইভাবে তিনি বক্তৃতা বিবৃতি এবং মিডিয়ায় কথা বলে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে গরম গরম কথা বলে নিজেকে বিরোধী নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টাও করেছেন। আমরাও তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের আগে আমরা বুঝতে পারলাম, তিনি গোপনে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নিজের স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

শেষ পর্যন্ত পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব ৩০০ আসন থেকে প্রার্থী মনোনীত করার পর মাত্র ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার বিনিময়ে গোটা পার্টিকেই বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চরম ভরাডুবি হয়েছে। আর সমঝোতা করে চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ মাত্র ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে এমপি হয়েছেন।

এমতাবস্থায় জাতীয় পার্টির নিবেদিত প্রাণ নেতা ও কর্মী সমর্থকরা চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্টির তৃণমূল পর্যায় থেকে পার্টিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবের পদত্যাগের দাবি ওঠে। পার্টির এ দুরবস্থার মধ্যেও চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাচারিতার নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করে পার্টির নিবেদিত প্রাণ নেতাদের একের পর এক অব্যাহতি দিয়ে চলেছেন।

চেয়ারম্যান জি এম কাদের পার্টির নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের ভাষা বুঝতে না পেরে প্রতিহিংসাবশত পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সংগ্রামী আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু এবং ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া চৌধুরীকে পার্টি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন নেতাকে মৌখিকভাবে অব্যাহতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন বলেও লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়।

জাহাঙ্গীর আলম পাঠান আরও বলেন, করোনা মহামারির সময় আমাদের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম সেন্টুর নেতৃত্ব ঢাকা মহানগরের ২৫টি থানা ও ৫৪টি ওয়ার্ড সম্মেলন সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছি। আর সেই ত্যাগী নেতাকে কোনোরকম কারণ দর্শানো নোটিশ না দিয়ে সরাসরি অব্যাহতি দিয়েছেন। যা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এমতাবস্থায় আমরা এরশাদপ্রেমিক নেতাকর্মীরা জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন তার বিপর্যস্ত সংগঠনে অবস্থান করে প্রাণপ্রিয় নেতা পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির ধ্বংস দেখতে চাই না। তাই আমরা জিএম কাদেরের সংগঠন থেকে আজ গণপদত্যাগের ঘোষণা করছি। একই সঙ্গে আপনাদের কাছে এ অঙ্গীকারও করে রাখছি-অল্পসময়ের ব্যবধানে আমরা পল্লীবন্ধু এরশাদের চেতনা ও নীতি আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

সংবাদ সম্মেলনে জাপার ঢাকা মহানগর উত্তরের সদ্য বহিষ্কৃত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, জাপার চেয়ারম্যান ও মহাসচিব এটাকে নিজের দল মনে করেন। তারা এটাকে মুদিদোকান মনে করেন। তারা সকালবেলা অফিসে আসেন, সন্ধ্যায় ফিরে যান। এখানেই খাওয়া-দাওয়া করেন।

জাপার চেয়ারম্যান একটি ফাঁদ তৈরি করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, তিনি (জিএম কাদের) কিছু নির্ধারিত লোক তৈরি করেছেন। তারা সারাদিন দোকানদারি করেন। সন্ধ্যার পর তাকে (জিএম কাদের) হিসাব দেন। হিসাব নিয়ে তিনি বাসায় চলে যান। তার আশপাশে যারা আছেন, তারা হলেন ঘুঘুর ফাঁদ। এ ফাঁদে তিনি পড়ে গেছেন। এ ফাঁদ থেকে তিনি বের হতে পারবেন না। উনি জানেন না, উনি এখন লাটিমের মতো ঘুরছেন। আর এ লাটিমের সুতা মহাসচিবের হাতে।

জাপাকে জিএম কাদের ধ্বংস করে ফেলেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ দল করার যোগ্যতা আপনার নেই। আপনার পদত্যাগ করা উচিত। আমরা জিএম কাদেরের নেতৃত্বে দল করবো না। আমরা পল্লীবন্ধু এরশাদের আদর্শ নিয়ে আগামীতে এগোবো।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তরের ১০টি থানার ৬৭১ জন নেতাকর্মী গণপদত্যাগ করেন। থানাগুলো হলো- মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরে-ই-বাংলা, হাতিরঝিল, পল্লবী, মিরপুর, বাড্ডা, রূপনগর, দারুসসালাম, ক্যান্টনমেন্ট থানা। এ গণপদত্যাগ অব্যাহত থাকবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ