শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪

কুমিল্লায় সূচনা ও ময়মনসিংহে টিটুর বিপুল ভোটে জয়

কুমিল্লায় সূচনা ও ময়মনসিংহে টিটুর বিপুল ভোটে জয়

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডা. তাহসীন বাহার সূচনা। শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মেয়র পদে উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শেষে তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনে বড় ব‍্যবধানে আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু। এ নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৯টি। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লা জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন। ঘোষিত ফলে জানা গেছে, মেয়র পদে উপনির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে ডা. তাহসীন বাহার সূচনা বাস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। এছাড়াও ঘোড়া প্রতীকের নিজাম উদ্দীন কায়সার ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট এবং হাতি প্রতীকের নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম পেয়েছেন ৫ হাজার ১৭৩ ভোট। 

ডা. তাহসীন বাহার সূচনা কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে এবং  কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি প্রথমবারের মতো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হন। ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজল খানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত মনিরুল হক সাক্কু। এরপর ২০১৭ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন সাক্কু। 

২০২২ সালের ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে মেয়র সাক্কুকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত মেয়র নির্বাচিত হন। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেয়র আরফানুল হক রিফাত। এতে মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ ৯ মার্চ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন।   

কুমিল্লা সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ২৭৮, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮২ জন এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে এসব ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

এদিকে ময়মনসিংহ নগরের ১২৮টি ভোট কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে মো. ইকরামুল হক টিটু ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৯। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হাতি প্রতীকে সাদেকুল হক খান মিল্কি টজু পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৯৫ ভোট। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোড়া প্রতীকে এহতেসামুল আলম পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৪৩ ভোট, কৃষকলীগ নেতা রেজাউল হক হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৫৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম স্বপন মণ্ডল লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৭৬ ভোট।

এ ফলাফলে মো. ইকরামুল হক টিটু তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এতে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সূত্র জানায়, নগরের ৩৩ ওয়ার্ডের মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৯৯০ বুথে দেড় হাজার ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে চারজন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পাঁচজন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি সাত প্লাটুন বিজিবি, ১১ প্লাটুন পুলিশ, আর্মড পুলিশ এবং আনসার সদস্য, ১৭ টিম র‌্যাব ছাড়াও ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্রমতে, এ নির্বাচনে পাঁচজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডে ১৪৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১১টি আসনে মোট ৬৯ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়াই করেছেন। তবে নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ আলম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় কাউন্সিলর পদে মোট ৩২টি ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩২ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৫ জন নারী ভোটার ছিলেন। এ ছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ৯ জন।

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ