মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ব্যবহৃত প্রতিটি মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটকে একটি নির্দিষ্ট নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ বা অননুমোদিত হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করা এবং টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাই এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
এনইআইআর পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন একদল মোবাইল ব্যবসায়ী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ
ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, “ওরা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে, ইটপটকেল ছুঁড়ে মারছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।”এনইআইআর চালু, প্রতিবাদে বিটিআরসি কার্যালয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা, ভাঙচুর
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। তবে হামলা ও ভাঙচুরের কারণে বিটিআরসি কার্যালয় এলাকায় সাময়িকভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, তারা আসরের নামাজ পড়ছিলেন, এ সময় বাইরে থেকে ইটপাটকেল মারা শব্দ পান।
তিনি বলেন, বিকাল ৫টার দিকে সেখানে সেনাবাহিনীর একাধিক দল এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছিলেন মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবসায়ীরা, যারা নানা ‘অবৈধ রুটে কর ফাঁকি’ দিয়ে দেশে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশের বাজারে ঢোকাচ্ছেন বলে অভিযোগ সরকারের।
কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফোন দেশে ঢোকা বন্ধ করতে সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়।
এনইআইআর চালু হলে দেশে অবৈধ পথে আসা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পুরনো ফোনের ব্যবসাও।
মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। তবে এনইআইআর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহার হওয়া কোনো ফোনই বন্ধ হবে না।
আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা ছিল, যার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
গেল ৭ ডিসেম্বর বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করেন মোবাইল ব্যবয়ীরা। প্রায় দিনভর সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন।
পরে এনইআইআর চালুর দিনক্ষণ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি করার ঘোষণা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
এনইআইআর চালুর ফলে মোবাইল ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। তবে এ বিষয়ে বিটিআরসি বা ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















