ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস নিজের নামে ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। সাবেক এই মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসা, ব্যাংকে রাখা সঞ্চয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং বাড়িভাড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। প্রতিবারই তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন। এর আগে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করলেও ব্যবসা থেকে তাঁর কোনো আয় নেই। বার্ষিক এই আয়ের পুরোটা আসে বাড়িভাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে।
এর মধ্যে বাড়িভাড়া থেকে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। এফডিআর ও ব্যাংক আমানত থেকে সুদ বাবদ আসে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা। শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।
হলফনামায় তিনটি অস্ত্র ক্রয়ের জন্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন তিনি। সম্পদের তালিকায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার। এছাড়া ৩০ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতুও রয়েছে তাঁর নামে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে তিনি ১৮ লাখ টাকা মূল্যমানের অকৃষি জমির মালিক। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৬ হাজার ১০৬ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে তাঁর নামে। এছাড়া দুটি গাড়ির পার্কিংসহ ২ হাজার ৯৩০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যমানের ৮ হাজার ৩০ বর্গফুটের একটি ফ্লোরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আরও পাঁচটি ফ্ল্যাটের অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করেননি মির্জা আব্বাস। এসব ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৮ হাজার ৬০৪ বর্গফুট।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার। তাঁর নামে ২২ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতুও রয়েছে। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে আফরোজা আব্বাস ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন।
১৯৫১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া মির্জা আব্বাস হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক উল্লেখ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ২২টি মামলা থাকার তথ্যও হলফনামায় দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম



















