বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

শীতকালীন রোগ মোকাবিলায় সকল হাসপাতালে জরুরি ৭ নির্দেশনা

শীতকালীন রোগ মোকাবিলায় সকল হাসপাতালে জরুরি ৭ নির্দেশনা

শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ ও রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের সব হাসপাতালের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাতটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালের ভাঙা জানালা, দরজা বা যেসব স্থানে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করে, সেগুলো পিডব্লিউডি, এইচইডি অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত মেরামত বা সংস্কার করতে হবে। এর মাধ্যমে শীতকালীন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।


এছাড়া রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও মশারি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শীত ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি না বাড়ে।


শীতকালীন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় নেবুলাইজার সলিউশন, অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন, ওরাল স্যালাইন, আইডি ফ্লুইডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।


নির্দেশনায় শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে বাধ্যতামূলকভাবে বৈকালিক রাউন্ড নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীর অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের শীতকালীন রোগ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।


এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন এমআইএস কন্ট্রোল রুমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ ও রোগীরা যেন সঠিক সেবা পান, সে বিষয়ে হাসপাতাল প্রধানদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি রাখার কথাও বলা হয়েছে।


চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উপরোল্লিখিত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হলো।


এই নির্দেশনা দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ