শরীরের অভ্যন্তরীণ বর্জ্য ফিল্টার করা এবং বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে কিডনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
তাই কিডনির কাজে সহায়তা করতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকরা।
বিশেষ করে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ফলগুলো কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করার পাশাপাশি পাথর হওয়া প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
কিডনির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আপেল হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী। আপেলে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার, ভিটামিন সি এবং প্রদাহ-বিরোধী যৌগ।
ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মতে, আপেলে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকায় এটি কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে না। নিয়মিত আপেল খেলে তা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং কিডনিকে বিষমুক্ত রাখে।
প্রবাদ আছে, ‘প্রতিদিন একটি আপেল ডাক্তারকে দূরে রাখে’, যা কিডনি সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সমানভাবে সত্য।
কিডনির প্রদাহ কমাতে লাল আঙুরের ভূমিকা অনন্য। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ‘রেসভেরাট্রল’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনির টিস্যুকে সুস্থ রাখে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে আঙুর খাওয়ার অভ্যাস কিডনির স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এবং ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়ক। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে কিডনির যে ক্ষতি হয়, তা থেকে সুরক্ষা দিতে লাল আঙুর ওষুধের মতো কাজ করে।
ডালিম বা বেদানা কিডনি টিস্যুর জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত। ডালিমের রস ভিটামিন এবং পলিফেনলের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা অক্সিডেটিভ ক্ষতি কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।
২০২৩ সালের এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত ডালিমের রস পানে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, যা পরোক্ষভাবে কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। শরীরের বর্জ্য নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং কিডনিকে রোগমুক্ত রাখতে এই ৩টি ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























