রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল বাংলাবাজার পত্রিকা.কম চকলেটের তৈরি আস্ত ট্রেন, গড়ল নতুন বিশ্ব রেকর্ড বাংলাবাজার পত্রিকা.কম শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ১৮ মাস পর নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন ড. ইউনূস বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সংসদ বসছে ১২ মার্চ, নির্বাচিত হবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না’ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নতুন সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রণয় ভার্মা বাংলাবাজার পত্রিকা.কম রাজনৈতিক হয়রানিমূলক সহস্রাধিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন বাংলাবাজার পত্রিকা.কম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম মাদারীপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ

সরকারের উদাসীনতায় দেশে ঘুষ ও দুর্নীতি বাড়ছে

সরকারের উদাসীনতায় দেশে ঘুষ ও দুর্নীতি বাড়ছে

দেশের মানুষ ঘুষ খোরদের ঘৃণার চোখে দেখলেও, সরকারের উদাসীনতায় দেশে ঘুষ ও দুর্নীতি বাড়ছে। চারিদিকে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে দেশের অর্থ আত্মসাতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। চোরের সঙ্গে চোরদের ছেলে-মেয়ের বিয়ে দেয়া হচ্ছে, এক চোর বিপদে পড়লে অন্য চোর এগিয়ে আসে ও নানান রকমের বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করে। যারা ব্যাংক ডাকাতি, ঋণ খেলাপি ও বিতর্কিত- তারা অনেকেই আজ সরকারি সংস্থার নীতিনির্ধারক।

আজকাল ঘুষ না দিলে কোন কাজ হয় না। দুর্নীতি ও ঘুষ দেয়া-নেয়া দেশের মানুষের কাছে যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। দেশে অভাবের কারণে খুব বেশি মানুষ দুর্নীতি করে না, বরং দুর্নীতি হচ্ছে ব্যক্তির সীমাহীন লোভের কারণে।

দুনীর্তি ও ঘুষবিহীন জাতি গঠনের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীন বাঙালি জাতি হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। কিন্ত দুঃখের বিষয় ৫৩ বছরের মধ্যেই আমরা আমাদের স্বাধীনতার প্রত্যয় অঙ্গীকার ও শপথ ভুলে গিয়েছি।

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়লেও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অবহেলায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেনি। উল্টো দেশের সম্পদ  কুক্ষিগত করেছে অল্প কিছু মানুষ। পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থায় দেশে অল্প কিছু মানুষের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ। তাদের সুবিধার জন্যে রাষ্ট্রের আইনকানুন তৈরি হয়েছে এবং এই কারণে কিছু মানুষ বাধ্য হচ্ছে স্বার্থপর হতে। অন্যদিকে শ্রেণি-বৈষম্য দিনদিন বেড়েই চলেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী আজ বড়ই কষ্টে দিন কাটাচ্ছে বা ধ্বংস হতে চলেছে।

বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে জনগণের মাঝে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিশুকালের গল্পের নামে ছোট বয়স থেকে শিশুদের মিথ্যা শিখানো হচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষা ও প্রতিযোগিতার নামে শিশুদের শেখানো হচ্ছে অসৎ মানবিক মূল্যবোধ, যা শিশুরা অজান্তেই তাদের মস্তিকে ধারণ করছে। ছোট থেকে একটি শিশুর মানসিক বিকাশে মনুষ্যত্বের চেয়ে অর্থের প্রয়োজনীয়তাকে মুখ্য বলে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সুকৌশলে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ না শিখিয়ে তাদের চিন্তায় একটি জিনিস ঢুকিয়ে দেয়া হয় যে, প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানেই অর্থের প্রাচুর্য্য। শিশুদের জন্য এই রকম শিক্ষাই মানবিক মূল্যবোধ নষ্টের জন্য দায়ী। যার প্রভাবে সমাজে দুনীর্তি ও অসৎ কাজ বেড়েই চলেছে। ঐতিহাসিক ভাবে বাঙালি জাতি সাংস্কৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ কিন্তু নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি।

আমাদের দেশে মানুষ ও রাষ্ট্রের উদাসীনতা দুর্নীতির সবচেয়ে ভাল প্রজননক্ষেত্র। পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ ভেঙে পড়ায় পুরো বাংলাদেশ দুর্নীতির প্রজনন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে দেশে আর্থ সামাজিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন