বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম

বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার ৬৫ হাজার জেলে

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এতে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়লেন সাগরের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা ভোলার প্রায় ৬৫ হাজার জেলে।


তবে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই কর্মহীন জেলেদের সরকারি সহযোগিতার ভিজিএফ চালসহ এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধের দাবি জেলদের। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ভোলার জেলেদের। 


ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় ১৪ এপ্রিল দিনগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের এ সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত। 


জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, ভোলার ৭ উপজেলায় নিবন্ধিত সাগরের জেলে রয়েছেন ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৮ জন, দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন, চরফ্যাশনে ১৭ হাজার ৫৬১ জন ও মনপুরায় উপজেলায় রয়েছেন ১০ হাজার ১৮৫ জন।


ভোলার ব্যস্ততম ভোলার খাল ঘুরে দেখা যায়, সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ইতোমধ্যে সব জেলেরা তাদের জাল-ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরেছেন। এসব জেলেরা ঘাটে কেউ কেউ জাল-ট্রলার নিরাপদ স্থানে উঠিয়ে তা মেরামত শুরু করেছেন।


রিয়াজ ও রাকিব মাঝি  বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে আগেভাগেই জাল ট্রলার নিয়ে আমরা তীরে ফিরে এসেছি। অভিযান শেষ হলে ফের সাগরে মাছ ধরতে যাব। আসলে নিষেধাজ্ঞায় আমরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে গেলাম। কী করব অন্য কোনো কাজও জানি না, চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে হবে। সাগর থেকে ফিরে এখন জাল-ট্রলার মেরামত শুরু করেছি।


মো. ফারুক ও হাসান মাঝি বলেন, সরকারের অভিযান না মানার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের কাছে নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই খাদ্য সহায়তার চাল চাই, না হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এছাড়া এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধের দাবিও জানান তারা।


এছাড়া মো. হারুন ও তুহিন মাঝি অভিযোগ করে বলেন, সাগরের ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমরা বাংলাদেশের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে না গেলেও ভারতের জেলেরা ঠিকই বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। অভিযান তো অভিযান ই। আমরা চাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভারতের কোনো জেলে যেন আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরতে না পারে,এতে আমরা নিষেধাজ্ঞার শেষে সাগরে গিয়ে বেশি পরিমাণে মাছ পাব। 


বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও টাস্কফোর্স কমিটির মিটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছঘাটগুলোতে সচেতনমূলক সভা ও প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানান ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রতি জন জেলেকে সরকারি সহযোগিতার ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন