বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

রমজানের শেষ দশকে যে দোয়াগুলো বেশি পড়বেন

রমজানের শেষ দশকে যে দোয়াগুলো বেশি পড়বেন

মহান আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র রমজানের শেষ দশকে উপনীত হয়েছে। রমজানের এই অংশকে বলা হয় ‘নাজাত’ অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময়। এই দশকেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত ‘লাইলাতুল কদর’। তাই এ সময় বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দোয়া ও ইস্তেগফারে মনোযোগ দেওয়া মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নাজাতের এই সময় এবং বিশেষ করে শবে কদরের সন্ধানে যে দোয়াগুলো বেশি পড়া উত্তম, তার কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো-


১. শবে কদরের বিশেষ দোয়া

শবে কদরের রাতে পড়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (স.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। সেটি হলো-

আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)


২. জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোরআনিক দোয়া

রমজানের শেষ দশকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য কোরআনে বর্ণিত দোয়াগুলো বেশি পড়া উত্তম।

দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া-

আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়াক্বিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা: ২০১)

আগুনের শাস্তি থেকে মুক্তির দোয়া

আরবি: رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা মা খালাক্তা হাযা বাতিলান সুবহানাকা ফাক্বিনা আযাবান্নার।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এই বিশ্বজগতকে বৃথা সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র। সুতরাং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (সুরা আলে ইমরান: ১৯১)



৩. ক্ষমা ও রহমত কামনার দোয়া

গুনাহ মাফ ও আল্লাহর রহমত লাভের জন্য নিচের দোয়াগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা-

আরবি: رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি যালামতু নাফসি ফাগফিরলি।

অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের ওপর জুলুম করেছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (সুরা কাসাস: ১৬)


তওবাকারীদের জন্য রহমতের দোয়া

আরবি: رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

উচ্চারণ: রাব্বানা ওয়াসি‘তা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাঁও ওয়া ইলমা ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়াত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আযাবাল জাহিম।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে তাদের ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (সুরা মুমিন: ৭)


রহমত কামনার দোয়া

আরবি: رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমিন।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি রহম করুন। আপনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন: ১০৯)


৪. মুমিনদের জন্য ক্ষমা ও ভ্রাতৃত্বের দোয়া

আরবি: رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ

উচ্চারণ: রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি ওয়ালা তাজ‘আল ফি কুলুবিনা গিল্লাল লিল্লাজিনা আমানু রাব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রহিম।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং ঈমানে অগ্রগামী আমাদের ভাইদের ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ সৃষ্টি করবেন না। নিশ্চয় আপনি অতি দয়ালু ও পরম করুণাময়। (সুরা হাশর: ১০)


রমজানের শেষ দশক আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক মহামূল্যবান সুযোগ। এই সময় বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করাই এ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।


আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের শেষ দশকের ফজিলত অর্জন করার এবং এসব দোয়ার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও তাঁর নৈকট্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন