আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রীদের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন।
বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, ঈদের সময় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে ছুটির সময় ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ঈদের সাত দিনের ছুটিতে সম্ভাব্য কিছু চ্যালেঞ্জের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “ঈদের ছুটিতে বাজার ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা এবং জ্বালানিসহ কিছু বিষয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এই অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, উৎসবের সুযোগে যাতে কোনো অসাধু চক্র নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
এ ছাড়া নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “নারী নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা এই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে এ ধরনের অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”
আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সচিব জানান, চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা পরিবর্তনগুলো মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে, যা পাসের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। এ ছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হয়ে যাওয়া ফ্ল্যাশ ফ্লাড (আকস্মিক বন্যা), শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কৃষি, খাদ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















