ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এখন এক অনির্দিষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্রে হামলা ও পাল্টা হামলার তীব্রতা কেবল বাড়ছেই না, বরং তা রূপ নিচ্ছে এক ভয়াবহ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে।
এই চরম উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ২০তম দিনে এসে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর আরও এক ভয়াবহ আঘাত হানার দাবি করেছে ইসরায়েল।
দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং উপ-প্রধান আলীরেজা বায়েতকে হারানোর ক্ষত দগদগে থাকতেই এবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে হত্যার দাবি করেছে তেল আবিব।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই তথ্য জানান।
যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগের সর্বোচ্চ তিন নীতিনির্ধারকের প্রয়াণ। লারিজানি ও বায়েতের জানাজা বুধবার তেহরানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর খবর ইরানজুড়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। ইসরায়েল দাবি করছে, এই সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য সংগ্রহের মূল মস্তিষ্ককে অচল করে দিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি। এর পরপরই উপ-প্রধান আলীরেজা বায়েতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।
তবে এই বিশাল ধাক্কার মুখেও ইরান বলছে, তাদের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে পড়বে না। এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।
আল-জাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, একজন নেতাকে হত্যা করা হলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো অটুট থাকে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে লক্ষ্য করে চালানো অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল। এর মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক গোয়েন্দা কার্যক্রম বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, তেহরানের রাজপথে ইতিমধ্যে নিহত নেতাদের জানাজাকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে, যারা ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ এবং ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়ার স্লোগান দিচ্ছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















