মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন উত্তজনা ও আকাশপথে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কাতারের সামরিক বাহিনীর একটি বিমান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, একটি সামরিক হেলিকপ্টার নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কাতারের জলসীমার ওপর আছড়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারে থাকা ক্রু এবং যাত্রীদের খুঁজে বের করতে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কাতার প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি একটি ‘রুটিন ডিউটি’ বা নিয়মিত টহলের কাজে নিয়োজিত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে কাতার সরকার।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের একাধিক দল দুর্ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন যাত্রী ওই হেলিকপ্টারে ছিলেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে কাতার বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদেইদ’ লক্ষ্য করে গত তিন সপ্তাহে অসংখ্যবার ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারেনি, তবে এই অঞ্চলে আকাশপথে চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ ও যুদ্ধকালীন কড়াকড়ির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের জীবন বাঁচাতে কাতার তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম

















