মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের বাংলাবাজার পত্রিকা.কম আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ৫ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম সভায় ৪০ অধ্যাদেশ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম পূর্ণাঙ্গ বিজয় পর্যন্ত লড়াই চলবে, ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বাংলাবাজার পত্রিকা.কম মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে: মন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি সরকার গ্রহণ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। 


মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


সভায় ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরের যানজট পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে।


বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হলো ঢাকা মহানগরের ভেতরে থাকা পাঁচটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে থাকা এই টার্মিনালগুলো শুধুমাত্র ‘সিটি সার্ভিসের’ জন্য ব্যবহৃত হবে। এছাড়া শহরের যত্রতত্র থাকা বাস কাউন্টারগুলোও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে দেশীয় পদ্ধতিতে ১২০টি সিগন্যাল পয়েন্টকে পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।


রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার পাশাপাশি রাস্তার মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা শহরের ভেতরের রেল ক্রসিংগুলোতে বিদ্যমান ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক ‘অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম’ চালু করা হবে। শহরের সব সিটি বাসকে জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আনা হবে যাতে করে কেন্দ্রীয়ভাবে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।


যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লিফট স্থাপন করা হবে যাতে রোগী ও বয়স্কদের যাতায়াতে সুবিধা হয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রস্তাবিত এসব পরিকল্পনার অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।


এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। ঢাকার চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং শহরের ভেতরে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ট্রাফিক উন্নয়নের পরিকল্পনাও এই সভায় অনুমোদিত হয়।


সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপিসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআরটিসি চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানরা সভায় অংশ নেন।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন