মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

মধ্যবিত্তের সংসারে টানাপড়েন, বাড়ছে অশান্তি

প্রতীকি ছবি

নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম যেন কোনোভাবেই টানা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পণ্যমূল্য এরফলে মধ্যবিত্তের সংসারে চলছে টানাপড়েন। বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি।

আগে থেকেই নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে যে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছিল, তা এখন ঢুকেছে মধ্যবিত্তদের ঘরে। বাজার পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তের মধ্যে জীবন টেকানোর লড়াইয়ে পার্থক্য নেই বললেই চলে। তবে মধ্যবিত্তের সংকট ‘সামাজিক মর্যাদা হারানোর ভয়’।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দৈনন্দিন বাজার খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী করতে লোকলজ্জার ভয় ও অস্বস্তি নিয়েই টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আর নিম্নআয়ের মানুষেরা বলছেন, ওএমএসের লাইনই এখন তাদের ভরসা।

এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেকেই মাস চালাতে কাটছাঁট করছেন তিন বেলা খাবারের মেন্যুতে। কমাতে হচ্ছে পরিবার নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি কিংবা রেস্তোরাঁয় খাওয়া।

একেবারেই প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার না করা, প্রসাধনীর ব্যবহার কমানো, এমনকি সন্তানদের হাত খরচ থেকেও টান দিয়ে তবেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন তিনি।

যারা হয়তো দেশি মুরগি খেতেন, তারা ব্রয়লার কিনছেন। এরফলে এক ধরনের হীনম্মন্যতা জন্মাচ্ছে। সেটা সন্তানের সামনে, সমাজের সামনে। এই পরিস্থিতিতে তার মানসিকতা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

হীনম্মন্যতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরে প্রভাব পড়ার বিষয়ে মনোচিকিৎসক মেখলা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনও ধরনের পরিবর্তন, সেটা দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে এক ধরনের চাপ হয়। সেটা সামলাতে না পারলে ব্যবহারে অসঙ্গতি দেখা যায়। তখন সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। যেকোনও না পাওয়া নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকে। দ্রব্যমূল্যের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা থেকে এই দোষারোপ শুরু হয়। এখন মূলত দরকার পরিস্থিতি স্বীকার করে নিয়ে মানসিক প্রস্তুতি। পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে— সেটা খেয়াল করে সামনে আরও কীসের মুখোমুখি হতে হবে, সেই ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা করে পারস্পরিক পথ চলার পদ্ধতি নির্ধারণ জরুরি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, ২০১৭ থেকে ২০২১—এই চার বছরে মূল্যস্ফীতির হার ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৭ সালে ১০০ টাকা দিয়ে যে পণ্য কেনা যেত, ২০২১ সালে এসে সেটি কিনতে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৩১ টাকা। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মনিটরিং সেলের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় সব পণ্যের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বেকায়দায় পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রমের ট্রাক সেলের লাইনে কিছু দিন আগেও ভিড় ছিল নিম্ন আয়ের মানুষের।

সম্পাদক : তাসকিন ফাতেমা

প্রকাশক : জোবায়ের আহমেদ