মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

স্বপ্ন পূরণ করতে চায় ফ্রান্স-মরক্কো

স্বপ্ন পূরণ করতে চায় ফ্রান্স-মরক্কো

কাতার  বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার আল বায়াত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্বপ্ন যাত্রায় উড়তে থাকা আফ্রিকান দল মরক্কো। স্বপ্নের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল ঠিক সেভাবেই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে চায় এ্যাটলাস লায়ন্সরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে হতবাক করে দিয়ে ১-০ গোলের জয়ের মাধ্যমে বিশ^কাপের শেষ চার নিশ্চিত করে মরক্কো। অন্যদিকে লেস ব্লুজরা দুর্দান্ত এক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীবারের মত বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধরে রাখার মিশনে এখনো সঠিক পথেই রয়েছে।

অধিনায়ক হ্যারি কেনের ৮৪ মিনিটের পেনাল্টি মিসে ইংল্যান্ডের কপাল পুড়ে। আর এতেই ভাগ্য খুলে যায় ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে সেকথা স্বীকার করে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যম বলেছেন, সৌভাগ্যই আমাদের সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। বড় কোন শিরোপা আরো একবার অধরাই থেকে গেল ইংলিশদের। 

অরেলিয়েন টিচুয়ামেসির জোড়ালো শটের পর অলিভলার গিরুদের হেডে ৭৮ মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। কেন ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি শোধ করলেও পরেরটি আর পারেননি। বারের উপর দিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে তিনি কার্যত পুরো ফ্রান্স শিবিরকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেন।

অন্যদিকে ইংলিশ সমর্থকদের নিস্তব্ধ করে দেন। একেবারে শেষ মিনিটে মার্কোস রাশফোর্ডের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য জালে প্রবেশ না করাতে আরো একবার ফ্রান্স রক্ষা পায়।

আরো একবার ম্যাচ রেফারি উইলটন সামপাইওর বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তে ম্যাচের গতি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু সব কিছুর পরেও সেমিফাইনালের টিকিটটা সবদিক থেকেই ফ্রান্সের প্রাপ্য ছিল। টানা দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলার আশা তারা টিকিয়ে রেখেছে।

এর আগে  তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লেস ব্লুজরা জিততে পারেনি। কিন্তু তারপর থেকে আর সুযোগ হাতছাড়া করেনি। ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে খেলা দলটি দুইবারই বিশ্বকাপ জিতেছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালির পর প্রথম কোন ইউরোপীয়ান দল হিসেবে ৮৪ বছর পর ফ্রান্সের সামনে সুযোগ এসেছে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার। 

মরক্কোর বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে খেলতে যাবার আগে এবারের বিশ^কাপে কোন ম্যাচেই নিজেদের গোলবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারেনি ফ্রান্স। মরক্কোর সাথে তাই বাড়তি সতর্কতা নিতেই হচ্ছে দেশ্যমকে।

বিশেষ করে সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোর দক্ষতা এবার মরক্কো প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই যেভাবে প্রমান করেছে তাতে ফ্রান্সের রক্ষনভাগ নিয়ে দেশ্যমকে নতুন করে ছক কষতে হবে। 

আল বায়াত স্টেডিয়ামে কাল ফল যাই হোক না কেন মরক্কোর বর্তমান দলটি ইতোমধ্যেই জাতীয় ও মহাদেশীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়ে দিয়েছে। আফ্রিকান কোন দেশ হিসেবে এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখানো মরক্কো ইতিহাসের পাতায় সবসময়ই অনন্য এক অবস্থানেই থাকবে। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা এমন একটি দলের(পর্তুগাল) মোকাবেলা করেছে যারা আগের ম্যাচেই সুইজারল্যান্ডকে ছয় গোল বিধ্বস্ত করে দারুন আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু ওয়ালিদ রেগ্রাগুইর পুরো দল যে এক বিন্দুও ছাড় দেবার পাত্র নয়।

ইউসেফ এন-নেসরির দুর্দান্ত এক হেড সামলানো সম্ভব হয়নি পর্তুগীজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার। ২.৭৮ মিটার উচ্চতায় উঠে এন-নেসরির এই হেড নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে সাম্পদোরিয়ার বিরুদ্ধে ২.৫ মিটার উচ্চতায় উঠে যে গোলটি করেছিলেন সেটাই সর্বোচ্চ উচ্চতার গোল ছিল।

তিন শীর্ষ দল বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে মরক্কো যে সেমিফাইনালে খেলতে এসেছে তাতেই রূপকথা রচিত হয়ে গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একমাত্র কানাডা বিপক্ষে ছাড়া  আর কোন প্রতিপক্ষের সাথেই কোন গোল হজম করেনি মরক্কো। কানাডার সাথে গ্রুপ পর্বে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে গোলটিও ছিল আত্মঘাতি। আর এতেই গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দক্ষতা প্রমানিত হয়েছে।

এদিক থেকে রেগ্রাগুইয়ের দল কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকতে পারে। সর্বশেষ যে দুটি দল পাঁচ ম্যাচ কোন গোল হজম না করে ফাইনালে গিয়েছিল সেই ২০০৬ সালের ইতালি ও ২০১০ সালের স্পেন শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল।

তাদের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ৪৫টি শটের মধ্যে মাত্র নয়টি এসেছে টার্গেটে। কিন্তু এসব কিছুই ফ্রান্সের দূরন্ত গতির কাছে ম্লান হওয়াটা সময়ের ব্যপার। মরক্কোর বিপক্ষে  এর আগে পাঁচ ম্যাচে কখনই হারেনি ফ্রান্স। 

শেষ চারে খেলতে নামার আগে ফ্রান্স দলে কোন ইনজুরি কিংবা নিষেধাজ্ঞা নেই। রাইট-ব্যাকে বেঞ্জামিন পাভার্ডের স্থানে জুলেস কুন্ডে মূল দলে দুর্দান্ত খেলছেন। ভাই লুকাস হার্নান্দেজের ইনজুরির সুবাদে দলে জায়গা পাওয়া থিও হার্নান্দেজও নিজেকে প্রমান করে চলেছেন। আগামীকাল গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে পাঁচ গোলের রেকর্ড গড়বেন ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভার গিরুদ। ইংল্যান্ডের সাথে কিছুটা শান্ত থাকলেও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে শুরু করা বিশ্বকাপের ১০টি ম্যাচেই এখন পর্যন্ত ফ্রান্স জয়ী হয়েছে। 

এদিকে পর্তুগালের সাথে হলুদ কার্ড পাওয়া মরোক্কান স্ট্রাইকার ওয়ালিদ চেডিরা সেমিফাইনালে খেলতে পারছেন না। ইনজুরির কারনে ওয়েস্ট হ্যামের অগার্ড আগের ম্যাচে খেলতে না পারলেও কাল তিনি দলে ফিরছেন। কারন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারনে রোমেইন সেইসকে দলে পাচ্ছেন না রেগ্রাগুই। যদিও সেমিফাইনালে আগে নিজেকে ফিট করে তোলার জন্য যথাসাধ্য পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সেইস। এক ম্যাচ পরেই মূল একাদশের জন্য নিজেকে ফিট করে তুলেছেন অভিজ্ঞ হাকিম জিয়েচ।

সম্পাদক : তাসকিন ফাতেমা

প্রকাশক : জোবায়ের আহমেদ