বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার এক মহান নেয়ামত ও তাঁর অসীম কুদরতের নিদর্শন। কোরআনে বৃষ্টিকে ‘বরকতময় পানি’ এবং জীবনের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এই রহমতকে ঘিরে সমাজে নানা ধরনের ভুল বিশ্বাস ও কুসংস্কারও প্রচলিত রয়েছে। এসব বিশ্বাসের কিছু দেশে-দেশে বা অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, আবার কিছু সীমিত পরিসরে প্রচলিত। তাই কোনটির শরয়ি ভিত্তি আছে আর কোনটি ভিত্তিহীন- তা জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে বৃষ্টির পানি নিয়ে প্রচলিত কয়েকটি ভুল বিশ্বাস এবং ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো।
১. বৃষ্টির পানিকে অলৌকিক ওষুধ মনে করা
অনেকে মনে করেন, বৃষ্টির পানি পান করলেই বা শরীরে লাগালেই কঠিন রোগও সেরে যায়।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে ‘বরকতময়’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে বরকতময় পানি বর্ষণ করেছি।’ (সুরা কাফ: ৯)
তবে কোরআন-হাদিসে এমন কোনো দলিল নেই, যা বৃষ্টির পানিকে সব রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা বলে ঘোষণা করে। তাই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর বরকতময় নেয়ামত হিসেবে একে দেখা উচিত।
২. বৃষ্টির পানিতে ভিজলেই গুনাহ মাফ হয়ে যায়
অনেকে মনে করেন, বৃষ্টির পানিতে ভিজলেই গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়।
এ ধারণার কোনো সহিহ দলিল নেই। গুনাহ মাফের জন্য তওবা, ইস্তেগফার ও নেক আমল জরুরি। তবে বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (স.) শরীরের কিছু অংশ বৃষ্টিতে ভিজিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি তো তার রবের কাছ থেকে এইমাত্র এসেছে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৯৮)
এটি আল্লাহর বরকতময় নেয়ামতকে সাদরে গ্রহণ করার একটি সুন্দর সুন্নাহ, গুনাহ মাফের বিশেষ মাধ্যম নয়।
৩. বৃষ্টির পানি দিয়ে তাবিজ বা অলৌকিক কাজ করলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়
কেউ কেউ বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে তাবিজ লেখা বা বিশেষ ঝাড়ফুঁকে ব্যবহার করলে অলৌকিক উপকার হবে বলে বিশ্বাস করেন।
শরিয়তে এ ধরনের বিশ্বাসের কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। বৃষ্টির বরকত স্বীকার করা এক বিষয়, আর তাকে অলৌকিক শক্তির উৎস মনে করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
৪. নক্ষত্র বা গ্রহের প্রভাবে বৃষ্টি হয়
জাহেলি যুগে বিশ্বাস করা হতো, নির্দিষ্ট নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়।
রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিশ্বাসকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃষ্টি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছায় হয়; কোনো নক্ষত্র বা গ্রহের অলৌকিক প্রভাবে নয়। (সহিহ বুখারি: ৮৪৬)
৫. বৃষ্টির দিনে জন্ম নিলে মানুষ সৌভাগ্যবান হয়
অনেক এলাকায় ধারণা রয়েছে, বৃষ্টির সময় জন্ম নেওয়া শিশু ভবিষ্যতে বিশেষ ভাগ্যবান হবে।
আসলে মানুষের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য তার জন্মের সময়ের আবহাওয়া নয়; বরং আল্লাহর ফয়সালা, ঈমান ও আমলের ওপর নির্ভর করে। তাই এ ধরনের বিশ্বাসের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।
৬. সব বৃষ্টিই রহমত, তাই যেকোনো বৃষ্টি উদযাপন করা উচিত
অনেকে মনে করেন, বৃষ্টি মানেই সব অবস্থায় রহমত।
উপকারী বৃষ্টি অবশ্যই আল্লাহর রহমত। তবে অতিবৃষ্টি, বন্যা বা ধ্বংসাত্মক বর্ষণ অনেক সময় মানুষের জন্য পরীক্ষা বা বিপদের কারণও হতে পারে। তাই রাসুলুল্লাহ (স.) অতিবৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন- ‘হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, বরং আমাদের চারপাশে (যেখানে প্রয়োজন সেখানে) বর্ষণ করুন।’ (সহিহ বুখারি: ১০১৩)
তাই মুসলমানের করণীয় হলো আল্লাহর কাছে সবসময় উপকারী বৃষ্টি কামনা করা।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























