রাজধানীতে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে” শীর্ষক একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ঢাকায় ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এর কার্যকারিতার ওপর ভয়েস-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ৪৬.২ লক্ষ টনে পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে মোট ই-বর্জ্যের মাত্র প্রায় ১০% আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হয়; বাকি অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন,“প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে । টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক উদ্যোগ এবং সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য । ”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের সঙ্গে ই-বর্জ্যের পরিমাণও দ্রুত বাড়বে । এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গবেষণা জোরদার, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন,
“ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শুধু নীতিমালা বা সচেতনতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয় । কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব ।”
ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি জাতীয় সচেতনতার বিষয়। তাই দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, যাতে তারা দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”
সভায় নাগরিক উদ্যোগ, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বাপা সহ বিভিন্ন রিসাইক্লিং কোম্পানি ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও টেকসই করতে সমন্বিত জাতীয় নীতি বাস্তবায়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে একটি মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহায়তায় উক্ত সংলাপটি অনষ্ঠিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















