সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ‘মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দানকারীদের সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল’ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম অতি প্রবল হয়ে উঠছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, গতিবেগ হতে পারে ১৪০ কিমি বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২১৮ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম জাইকার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি বাংলাবাজার পত্রিকা.কম কেরানীগঞ্জে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট বাংলাবাজার পত্রিকা.কম দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু বাংলাবাজার পত্রিকা.কম পরীমনির জন্য উড়োজাহাজে করে কে পাঠালেন শিউলি ফুল? বাংলাবাজার পত্রিকা.কম মধ্যরাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের দাফন নিয়ে তাসনিম জারার ক্ষোভ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ভূড়ির কালাভুনা—সহজ রেসিপিতে দারুণ স্বাদ!

শরৎকাল: শুভ্র মেঘের ভেলায় চড়ে ঋতুরাণীর আগমন

শরৎকাল: শুভ্র মেঘের ভেলায় চড়ে ঋতুরাণীর আগমন

চলে এলো ভাদ্র মাস। ভাদ্র মানেই পলিমাটির এই বাংলায় শরতের স্নিগ্ধ ও রূপসী কন্যার মনমাতানো আগমন। বর্ষার একটানা ভারী বর্ষণ আর ধূসর মেঘের বুক চিরে আকাশ যখন সম্পূর্ণ ধুয়ে-মুছে একাকার হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই প্রকৃতি ধারণ করে এক অপরূপ ও নির্মল রূপ। বাংলা পঞ্জিকার ভাদ্র ও আশ্বিন—এই দুটি মাস মিলে আবর্তিত হয় ঋতুচক্রের অন্যতম সুন্দর ঋতু শরৎকাল। 


প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ, অপরূপ সৌন্দর্য আর মন জুড়ানো আবহাওয়ার কারণে শরৎকালকে অত্যন্ত আদরে ও গৌরবে বলা হয়ে থাকে ‘ঋতুরানী’। এই ঋতু কেবল বাংলার ধরণীকে নতুন সাজে সাজিয়েই তোলে না, বরং তা প্রতিটি মানুষের মন ও আবেগে ছড়িয়ে দেয় এক অদ্ভুত শান্তি ও আনন্দের স্পন্দন।



কাশফুল


নীলাভ আকাশ ও তুলার ভেলায় ভেসে বেড়ানো মেঘ


শরতের আকাশ যেন কোনো নিপুণ শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত চিত্রকলা। বর্ষার মেঘের ভারী আস্ফালন পেরিয়ে শরতের আকাশ হয়ে ওঠে গাঢ় নীলাভ ও কাচের মতো স্বচ্ছ। সেই রূপালি আকাশের বুকে দল বেঁধে ভেসে বেড়ায় পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘের ভেলা। দিনের সোনালী রোদে এই মেঘের মৃদু চলাচল আর বিচরণ মানুষের ক্লান্ত মনে নিয়ে আসে গভীর প্রশান্তি। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত গ্লানি ধুয়েমুছে এক নতুনপ্রাণের সন্ধান পায় এই নীলাকাশের মাঝে।



নদীর তীরে কাশফুলের শুভ্র হাতছানি


গ্রামীণ বাংলার মেঠো পথ, নদী কিংবা খালের ধার, আর জলাভূমির চারপাশ জুড়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয় স্নিগ্ধ কাশফুল। মৃদু বাতাসে যখন নদীর চরে এই সাদা ফুলগুলো দুলতে থাকে, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন তার শুভ্র হাসিতে চারপাশ আলোকিত করে তুলেছে। বাতাসে মাথা দুলিয়ে দেওয়া এই কাশবনই হলো শরতের সবচেয়ে বড় পরিচয় ও প্রতীক। এই অপরূপ দৃশ্য পথিকের মন কেড়ে নেয় এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় যে শরৎ এসে গেছে তার পূর্ণ মহিমায়।



শিউলি ফুলের সুবাস আর ধানের শীষে সোনালি স্বপ্ন


ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে ঝরে থাকা শিউলি ফুলের সুবাসে ভরে ওঠে চারপাশ। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ছোট্ট ফুলগুলো শরতের স্নিগ্ধতাকে মূর্ত করে তোলে। একই সঙ্গে বাংলার দিগন্তজোড়া ধানক্ষেতগুলোতে শুরু হয় রূপান্তর। কাঁচা ধানের শীষে ধীরে ধীরে ধরতে শুরু করে সোনালি আভা। এই সোনালি রঙ কৃষকের মনে বুনে দেয় নতুন স্বপ্নের বীজ, কারণ শরতের হাত ধরেই বাংলার ঘরে ঘরে আগমন ঘটে উৎসবের আমেজ। ফলে শরৎ কেবল রূপের ডেসয়াই নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার কৃষিজীবনের জন্যও এক পরম আশীর্বাদস্বরূপ।


শিউলি


শহর থেকে গ্রাম: সর্বত্র শরতের আবহ


যান্ত্রিক কংক্রিটের শহুরে জীবনেও শরতের ছোঁয়া লাগে ভিন্ন মাত্রায়। ব্যস্ত শহরের উঁচু ইমারতের ফাঁকে উঁকি দেওয়া নীল আকাশ আর দুপুরের একটু ফুরফুরে বাতাস শহরবাসীকেও কিছুক্ষণের জন্য হলেও ক্লান্তি ভুলিয়ে প্রাণবন্ত করে তোলে। অন্যদিকে, গ্রাম বাংলায় তখন অন্য রকম এক আনন্দোৎসব। নদীর ঘাটে ডিঙি নৌকার চলাচল, ধানের ক্ষেতে রোদের খেলা আর শিউলি ঝরার শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এভাবেই শহর ও গ্রাম—দুই ভিন্ন আঙ্গিকে শরৎ তার নিজস্ব মহিমায় ধরা দেয়।



আবেগ ও সাহিত্যের রূপসী ঋতু


শরৎ কেবল রূপ-লাবণ্যের কোনো ঋতু নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, লোকগান এবং সমৃদ্ধ সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এক অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে জীবনানন্দ দাশ—সবার রচনায় বারবার ফিরে এসেছে শরতের ওই নীল আকাশ, শুভ্র কাশফুল, ভোরের শিউলি আর জোছনা প্লাবিত রাতের রূপ। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের তুলিকাতেও শরৎ হয়ে উঠেছে প্রকৃতির এক পরম বিস্ময়। তাই সব মিলিয়ে শরৎ কেবল একটি ঋতু নয়, এটি বাঙালির চিরন্তন আবেগ, নস্টালজিয়া আর ভালোবাসার অপরূপ নাম—আমাদের প্রাণের ‘ঋতুরানী’।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন