রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি-ক্লাসের নতুন নিয়ম

একাদশ শ্রেনিতে ভর্তি-ক্লাসের নতুন নিয়ম

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।


ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে সংশোধিত নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এটি অনুমোদন হলে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।


এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তাতে সায় দেননি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


ঢাকা বোর্ড সূত্র জানায়, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।


বিগত বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে অনলাইনে একাদশে ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ পেতো। তবে এ বছর প্রথম পর্যায়ে একবারই সুযোগ পাবে। যেহেতু আবেদনের সুযোগ একবারই, সেহেতু আগের মতো মাইগ্রেশনের সুযোগও আর থাকছে না। 


তবে খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আরেকবার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কেউ বাদ পড়ে থাকলে বা কোনো কারণে নিশ্চয়ন না করলে বা কলেজ না পেলে সে-ও আবার আবেদনের সুযোগ পাবে।


বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তির আবেদন শুরুর কথা ছিল। তাতে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি এবং ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব ছিল।


কিন্তু বৈঠকে এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ, অর্থাৎ শুরুর দিকেই অনলাইন আবেদন শুরু হবে। এছাড়া, একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। যারা পুনর্নিরীক্ষার পর আবার আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে, তাদের ক্লাস আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই শুরু হবে। 


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগির এটি চূড়ান্ত হবে। এ নীতিমালাটি জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


নীতিমালায় পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। এজন্য ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস এগিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেগুলো মাথায় রেখে আমরা নীতিমালা করেছি। এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।


জানা যায়, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর নানান কারণে তা হয়ে ওঠেনি। গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয় ওই বছরের ১০ জুলাই।


ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এ বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। এরপরও যে কোনোভাবে গত বছরের কাছাকাছি সময়ে ক্লাস শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়।


গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।


সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদরাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে এবার মোট আসনের অর্ধেকের বেশি খালি থাকবে। তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন