চট্টগ্রামে আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এতে হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসানসহ চার পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে নগরের গুরুত্বপূর্ণ দুই পরিবহনকেন্দ্র কদমতলী ও অলংকার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের হালিশহর ঈদগাহ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে ভোট গ্রহণ চলাকালে এ সংঘর্ষের শুরু হয়।
থানা ও সংশ্লিষ্ট ভোটাররা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে নির্বাচন চলছিল। হঠাৎ ভোটকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত সময় এবং জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শ্রমিক আপত্তি তোলেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে।
পুলিশের ভাষ্য, শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছাড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সূত্র বলছে, সংঘর্ষ ও পরবর্তী হুড়োহুড়ির ঘটনায় আহত দুজন সোহেল (২৭) ও ইলিয়াস (৪৫) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নগরের কদমতলী ও অলংকার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। সড়কে বাঁশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
হালিশহর থানার ওসি জানান, তিনি ছাড়াও আরও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















