চীন ও নেপাল সীমান্তের কাছে হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের জেরে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে শুধু নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই নিখোঁজ রয়েছেন ৯ শতাধিক কর্মী।
নেপালের স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থার (IPPA) তথ্যমতে, রবিবারের হিসাব অনুযায়ী ৯৩৩ জন কর্মীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা মূলত নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট এবং টানেলে কাজ করছিলেন। এই এলাকা এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে নেপাল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের নাগরিকরাও রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় টানেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চিলিমে হাইড্রো পাওয়ার কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক বাবুরাজ মাহারজান।
নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও চীনের পাশাপাশি ভারতের উদ্ধারকর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্র সচিব অমৃত বাহাদুর রাই জানিয়েছেন, ১৯ হাজার নিরাপত্তাকর্মী ও ১৬টি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। তবে খারাপ আবহাওয়া এবং নতুন করে পাহাড়ি ঢলের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, মৃতের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে মরদেহ সংরক্ষণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেপালের মর্গ ও হাসপাতালগুলোতে জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। নেপালের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রোজিতা অধিকারী জানান, সরকার নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
চীনের তিব্বত অঞ্চলেও এই বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। জিরং কাউন্টিতে ইতিমধ্যে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তিব্বত অঞ্চলে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক ও সেতু ধসে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী এই দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন। এই চরম বিপর্যয়ের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কয়েক মিলিয়ন ডলারের জরুরি ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















