ফ্রিজে সবজি রাখার বক্সের নিচে বারবার পানি জমে যাওয়া সাধারণ ঘটনা বলে মনে হতে পারে। অনেকেই সেটি পরিষ্কার করে রেখে দেন এবং ভাবেন, হয়তো সবজি থেকেই পানি বের হয়েছে। কিন্তু যদি ট্রেতে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে, তাহলে এটিকে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এর পিছনে ফ্রিজের ভিতরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দরজার সিল কিংবা তাপমাত্রা সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।
অনেক সময় এই সমস্যা ছোটখাটো হয় এবং বাড়িতেই কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু যদি বারবার পানি ফিরে আসে, তাহলে এটি ফ্রিজের কোনও অংশে ত্রুটির ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই প্রথমেই জানা জরুরি, পানি ঠিক কোথা থেকে জমা হচ্ছে।
সবজি রাখার ট্রের নিচে পানি জমার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হতে পারে ফ্রিজের ড্রেন হোল ব্লক হয়ে যাওয়া। ফ্রিজের ভিতরে পিছনের দিকে অথবা সবজি রাখার ট্রের নিচে একটি ছোট ড্রেন হোল থাকে। ডিফ্রস্ট প্রক্রিয়ার সময় তৈরি হওয়া পানি এই পথ দিয়েই বেরিয়ে যায়। এতে খাবারের ছোট টুকরো, ময়লা অথবা বরফ জমে গেলে পানি বাইরে বেরোতে না পেরে ফ্রিজের ভিতরেই জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই পানিই সবজি রাখার ট্রের নিচে দেখা যায়।
ড্রেন হোলের আশপাশে ময়লা দেখা গেলে ফ্রিজ বন্ধ করে নিরাপদভাবে সেটি পরিষ্কার করা যেতে পারে। হালকা গরম পানি দিয়ে পথটি পরিষ্কার করতে সাহায্য হতে পারে। যদি ভিতরে বরফ জমে থাকে, তাহলে জোর করে খুঁচিয়ে তোলার বদলে স্বাভাবিকভাবে গলে যেতে দেওয়াই ভালো।
ফ্রিজের দরজা পুরোপুরি সিল না হলে বাইরের গরম বাতাস ক্রমাগত ভিতরে ঢুকতে থাকে। এই গরম বাতাসে থাকা আর্দ্রতা ঠান্ডা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে পানির ফোঁটায় পরিণত হতে পারে। ধীরে ধীরে এই আর্দ্রতা ফ্রিজের ভিতরে জমতে শুরু করে। দরজার চারপাশে থাকা রাবার সিলটি ভালো করে দেখুন। সেটি যদি নোংরা, ঢিলা, ছেঁড়া কিংবা কোনও জায়গা থেকে বেঁকে যায়, তাহলে ঠিকমতো সিল হবে না। হালকা সাবান ও পানি দিয়ে সেটি পরিষ্কার করে দেখুন। রাবারটি নষ্ট হয়ে গেলে সেটি বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।
একটি সহজ পেপার টেস্টও করা যেতে পারে। দরজা ও সিলের মাঝখানে এক টুকরো কাগজ রেখে দরজা বন্ধ করুন। যদি কাগজটি খুব সহজেই বেরিয়ে আসে, তাহলে সিল দুর্বল হতে পারে।
ভুল তাপমাত্রা সেটিংয়ের কারণেও ফ্রিজে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা বরফ জমতে পারে। সাধারণত ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় চার ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। তাপমাত্রা খুব কম থাকলে কিছু অংশে বরফ জমতে পারে এবং পরে সেই বরফ গলে পানি জমতে পারে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে ফ্রিজের কুলিং ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে।
গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে তার ভিতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ঢুকে যায়। গরম খাবার থেকে বেরোনো বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পানির ফোঁটায় পরিণত হতে পারে। এমনটা প্রতিদিন হলে ফ্রিজের ভিতরে আর্দ্রতা বাড়তে থাকে এবং সবজি রাখার ট্রের আশপাশে পানি জমতে পারে। খাবার নিরাপদভাবে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন এবং তারপর ঢেকে ফ্রিজে রাখুন। খোলা পাত্রে খাবার রাখলেও আর্দ্রতা বাড়তে পারে, তাই খাবার ঢেকে রাখাই ভালো।
সবজি ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে ফ্রিজ একেবারে ঠাসাঠাসি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাসের সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। বাতাস ঠিকমতো চলাচল না করলে কিছু অংশে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা পানির ফোঁটা দেখা দিতে পারে। সবজি রাখার ট্রে ও পিছনের দেওয়ালের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন। ফ্রিজের এয়ার ভেন্টও কোনও জিনিস দিয়ে ঢেকে রাখা এড়িয়ে চলুন।
আপনার ফ্রিজে যদি ওয়াটার ডিসপেনসার বা আইস মেকার থাকে, তাহলে তার আশপাশের পাইপ বা সংযোগও পরীক্ষা করুন। কোনও পাইপে লিক হলে পানি ধীরে ধীরে ভিতরে পৌঁছে নিচে জমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু সবজি রাখার ট্রে পরিষ্কার করলেই সমস্যা দূর হবে না। পানি ঠিক কোন পথ দিয়ে আসছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
ড্রেন হোল পরিষ্কার করা, দরজার রাবার সিল পরীক্ষা করা এবং তাপমাত্রা ঠিক করার পরও যদি সবজি রাখার ট্রেতে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে, তাহলে ফ্রিজের ভিতরের কোনও অংশে সমস্যা থাকতে পারে। ড্রেন সিস্টেম, ডিফ্রস্ট সিস্টেম, থার্মোস্ট্যাট অথবা পানির পাইপলাইনে সমস্যা হলে টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়াই ভালো।
তাই পরের বার ফ্রিজের সবজি রাখার ট্রের নিচে পানি দেখলে শুধু সেটি মুছে রেখে দেবেন না। প্রথমে ড্রেন হোল, দরজার সিল, তাপমাত্রা, এয়ার সার্কুলেশন এবং কোনও সম্ভাব্য লিকেজ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। ছোটখাটো সমস্যা সময়মতো চিহ্নিত করা গেলে ফ্রিজের বড়সড় ক্ষতি এবং ব্যয়বহুল মেরামতের খরচ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















