রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যজগতে এককথায় সৈয়দ শামসুল হকের পরিচয় ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং নাটকসহ শিল্প-সাহিত্যের নানা অঙ্গনে। সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বরে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও মাতা হালিমা খাতুন। সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার।


সৈয়দ হক তার বাবা-মায়ের আট সন্তানের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠতম। সৈয়দ হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। এরপর তিনি ভর্তি হন কুড়িগ্রাম ইংলিশ হাই স্কুলে। তার পিতার ইচ্ছায় তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ভর্তি হন পুরান ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গণিতে লেটার নিয়ে ম্যাট্রিক পাস করেন।


প্রথমে পিতার ইচ্ছায় বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া করলেও পরে তিনি জগন্নাথ কলেজে মানবিক শাখায় ভর্তি হন এবং লজিকে লেটারসহ আইএ পাস করেন। অতঃপর তিনি ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত লেখাপড়া করে আর পরীক্ষা দেননি। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে ‘অগত্যা’ নামে একটি ম্যাগাজিনে তার প্রথম প্রকাশিত লেখাটি ছিল একটি গল্প। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘তাস’, ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম উপন্যাস ‘এক মহিলার ছবি’, ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদা এক রাজ্যে’ প্রকাশিত হয়। তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘নূরলদীনের সারাজীবন’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘গণনায়ক’, ‘ঈর্ষা’। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’। কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পরানের গহিন ভিতর’, নাভিমূলে ভস্মধার’, ‘আমার শহর ঢাকা’, ‘বৃষ্টি ও জলের কবিতা’ প্রভৃতি। গান লিখেও খ্যাতি অর্জন করেছেন সৈয়দ হক। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার।


সৈয়দ শামসুল হক তার কর্মজীবনের প্রায় সাত বছর কাটিয়েছেন লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগের সঙ্গে। সংবাদ পরিবেশন করেছেন ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে।


ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল। তাকে জন্মশহর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের মূল ফটকের পাশে দাফন করা হয়।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন