শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা

৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।



স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ৩টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বাংলাদেশ সময় তখন শনিবার রাত প্রায় ৩টা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দক্ষিণ-মধ্য পানামার পিতালোজা আরিবা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্র ছিল।



ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেছেন প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ। বিস্তৃত অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।



ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পানামার একাধিক শহরে ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। পেনোনোমে ও সোনাসহ কয়েকটি এলাকায় ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়। যাচাই করা একটি ভিডিওতে পেনোনোমের একটি গির্জার এক পাশ ও একটি চূড়া ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে স্থানীয় একটি হোটেল প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়তে দেখা যায়।


আরও পড়ুন


মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন


এ ছাড়া ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কায় এক ব্যক্তিকে ডাকাডাকি করতে দেখা গেছে আরেকটি ভিডিওতে। তবে ওই ঘটনায় কেউ আটকা পড়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।



ভূমিকম্পে দেশজুড়ে কতগুলো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিরূপণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।



পানামার দক্ষিণাঞ্চলীয় হেরেরা প্রদেশের লাস মিনাস এলাকার বাসিন্দা রিকার্ডো ব্রাউন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভূমিকম্পে তার প্রতিবেশীদের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।



৭৪ বছর বয়সী ব্রাউন বলেন, ‘আমরা আতঙ্কিত। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ থাকি। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, এটি আমাদের ওপর ধসে পড়তে পারে।’



এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী পানামা সিটির বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এই শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। কম্পন থামার পর অনেককে ভবনে ফিরে না গিয়ে রাস্তায় ও আশপাশের পার্কে অবস্থান করতে দেখা যায়।



ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ফ্লাইট চলাচল বন্ধের খবরও শিরোনামে উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং কতক্ষণ বিমান চলাচল বন্ধ ছিল, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।



সূত্র: বিবিসি

সম্পাদক : আবদুল মাতিন