শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪

কক্সবাজারে স্বপ্নের ট্রেন

কক্সবাজারে স্বপ্নের ট্রেন

mগভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণসহ ৫৩ হাজার কোটির ১৬ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার রেল পথ রাত পোহালেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ১৮ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত দোহাজারি-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্প শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কক্সবাজারে নব নির্মিত আইকনিক স্টেশনে এই রেলপথ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার সৈকত ছোঁবে ‘স্বপ্নের ট্রেন’। এদিকে রেলপথ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। কক্সবাজার শহরের ঝিলংজায় ঝিনুকের আদলে তৈরি এশিয়ার সর্ব বৃহৎ আইকনিক রেল স্টেশনকে সাজানো হয়েছে মনোরমভাবে।
এখানে যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে নতুন একটি ট্রেন। এর আগে রোববার পর্যটন শহর কক্সবাজারে প্রথম পৌঁছায় আরো একটি ট্রেন। যে ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে কক্সবাজার অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছিল পরীক্ষামূলকভাবে।
স্বপ্নের এই ট্রেন যাত্রার দৃশ্য দেখতে দীর্ঘ রেলপথ এবং বিভিন্ন স্টেশনে জড়ো হন বিপুল মানুষ। এটির সফল যাত্রার পর বুধবার কক্সবাজার পৌঁছে নতুন বগি সংযুক্ত আরও একটি ট্রেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী এই ট্রেনে চড়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বহুল প্রতিক্ষিত রেল লাইন প্রকল্পের।
এদিকে স্বপ্নের এই রেল লাইনের সাথে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে উদ্বোধন করবেন ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান বলছেন, রেল লাইন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী যে ১৬ টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন তাতে রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত মাতারবাড়ি ১২ শ' মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্তি প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং এপ্রোচ রোড ও ব্রিজ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৪ টি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪টি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প। এছাড়াও রয়েছে জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নাধীন ৩টি প্রকল্প। 

মাতারবাড়ি ১২ শত মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর অন্যতম মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি জাপানের আর্থিক সহায়তায় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু হয় ২৯ জুলাই দুপুরে। ৬ মেগা ওয়াটের পরীক্ষামূলক উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এটি ১২ মেগাওয়াটে উৎপাদন শুরু করে অক্টোবরের শুরুতে।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনোওয়ার হোসেন মজুমদার জানান, উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, মহেশখালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে ১ হাজার ৬০৮ একর জমির ওপর স্থাপিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ইউনিটে বিভক্ত।  ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিএল) বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেলপথ ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দোহাজরি পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার পথ বৃটিশ আমলে তৈরি। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয় বর্তমান সরকার। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বিবেচনায় গৃহীত একটি মেগা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হয়েছে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু। 
দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার ১৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ হয়েছে। রেলপথে স্টেশনের সংখ্যা থাকছে ৯টি। এগুলো হলো- সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়ার সাহারবিল, ডুলাহাজারা, ঈদগাও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুম। 
এতে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম থাকবে ৯টি, ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম থাকবে ৯টি। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। এ ছাড়া ৪৩টি ছোট সেতু, ২০১টি কালভার্ট, সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া এলাকায় একটি ফ্লাইওভার, ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং এবং রামু ও কক্সবাজার এলাকায় দুটি হাইওয়ে ক্রসিং রয়েছে।

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ