শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪

যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু

থানচি ছেড়ে চাঁদের গাড়িতে বান্দরবান সদরে যাচ্ছে অনেকে -সংগৃহীত

❏ বান্দরবানে ড্রোন দিয়ে কেএনএফের সন্ত্রাসীদের খুঁজছে পুলিশ

❏ থানচি ছাড়ছে অনেক নারী-শিশু ❏ সক্ষমতা জানান দিতেই এ হামলা: র‌্যাব

বান্দরবানে পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। এ অভিযানে র‌্যাব ছাড়াও অংশ নিচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ। লুট হওয়া ১৪টি অস্ত্র উদ্ধার এবং কেএনএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সন্ত্রাসীদের দমনে পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতো সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হবে। শুক্রবার বেলা ১১টায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

এদিকে রুমায় অপহৃত সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণের ৪৮ ঘণ্টা পর সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র লুট এবং অপহরণের ঘটনায় রুমা থানায় ৩টি ও থানচি থানায় ১টিসহ ৬টি মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। রুমা-থানচিতে কেএনএফ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সশস্ত্র সংগঠনটির একের পর এক তাণ্ডবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে শনিবার বান্দরবানের রুমা-থানচি আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তে ড্রোন ব্যবহার করছে পুলিশ। শুক্রবার থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে ব্যাংকে হামলা, অস্ত্র লুট, অপহরণ ও গোলাগুলির ঘটনার পর বান্দরবানের থানচি উপজেলা সদরে পরিস্থিতি থমথমে। বন্ধ রয়েছে থানচি বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট। আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন অনেক নারী ও শিশু। থানচি এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও পুলিশের সতর্ক পাহারা দেখা গেছে। পুলিশ বলছে, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ তাদের সক্ষমতা জানান দিতে বান্দরবানের তিন ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, বান্দরবান জেলায় বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠন রয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতা, উত্তরসূরিদের অনুপ্রেরণা ও বহির্বিশ্বে তাদের সহযোগীদেরকে সংগঠনটির সক্ষমতা জানান দিতেই বান্দরবানের রুমা-থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি, অস্ত্র লুট, অপহরণ ও হামলার ঘটনাটি কেএনএফের সশস্ত্র সদস্যরা ঘটিয়েছে।

জানা গেছে, জেলার রুমা-থানচি-রোয়াংছড়ি-আলীকদম- এ চারটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় র‌্যাব কম্বাইন্ড অপারেশন শুরু করেছে। জেলাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে খন্দকার আল মঈন বলেন, র‌্যাবের অপারেশন চলমান রয়েছে। পাহাড়ে সংঘাত নিরসনে কেএনএফ সশস্ত্র সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে স্থানীয়ভাবে গঠিত ‘শান্তি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে র‌্যাব পাহাড়ে কেএনএফ ও জঙ্গিবিরোধী অভিযান সাময়িক স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির কাজ সব সময় চলমান ছিল। গোয়েন্দা তথ্যপ্রমাণ এবং কেএনএফের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ধারণা করা হচ্ছে কেএনএফ মূলত অর্থ এবং সংগঠনের লোকজনদের উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষমতা দেখাতেই ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে। ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ করেছিল ভল্টের চাবি না দেয়ায়। 

বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, যৌথ বাহিনী বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কেএনএফের গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। কেএনএফের অবস্থান চিহ্নিত করেই অপারেশন চলমান রয়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, বান্দরবান জেলায় বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সংগঠন রয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতা, উত্তরসূরিদের অনুপ্রেরণা ও বহির্বিশ্বে তাদের সহযোগীদের সংগঠনটির সক্ষমতা জানান দিতে লুট, অপহরণ ও হামলার মতো ঘটনা কেএনএফ ঘটিয়েছে। সিসি ফুটেজ দেখে এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগেও কুকি-চিন সদস্যরা টাকার বিনিময়ে জঙ্গি সদস্যদের অস্ত্র পরিচালনা প্রশিক্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল।

রুমার সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারকে উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রুমা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা না গেলেও র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ সবার প্রচেষ্টায় কোনোরূপ ঝুঁকি না নিয়ে তাদের কয়েকটি কৌশলের একটি ব্যবহার করে অপহৃত সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে কোন কৌশল অবলম্বন এবং রুমার কোন স্থান থেকে ম্যানেজারকে উদ্ধার করা হয়েছে তা জানাননি তিনি। 

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ নবীন