বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দেবে ইরান!

হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দেবে ইরান!

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছে তেহরান। বুধবার(১৪ জানুয়ারি) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্কের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই চরম বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কোনো দেশ যদি তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর আগ্রাসনে সহায়তা করে তবে সেই দেশগুলোকেও ধ্বংসাত্মক পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একইসঙ্গে দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের আগ্রাসন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। 


গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ’-এ ইরানি জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দেশটির জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতনকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তাদের জন্য শীঘ্রই মার্কিন সহায়তা আসছে।



প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, ইরানে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক স্থগিত থাকবে। ট্রাম্পের ‘মিগা’ (মেইক ইরান গ্রেট এগেইন) স্লোগান এখন তেহরানের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে যে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বিক্ষোভ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে তবে ট্রাম্পের নতুন উসকানি পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলতে পারে।



এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গড়িয়েছে তৃতীয় সপ্তাহে। এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। এছাড়া এই বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চলেছে তেহরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, এরফান সোলতানি নামে এই বিক্ষোভকারী বুধবার মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন। গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতারের পর তার বিচার, দোষী সাব্যস্তকরণ ও সাজা ঘোষণা করা হয়।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, ২৬ বছর বয়সি সোলতানিকে তেহরানের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের শহর কারাজ থেকে গ্রেফতার করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধের আগে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ যখন চরমে পৌঁছেছিল, তখন গ্রেফতারের এ ঘটনা ঘটে। গার্ডিয়ানের তথ্যানুসারে, গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীর মধ্যে এরফান একজন। 

 

এরফানের মামলাটি তুলে ধরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে যে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘ভিন্নমত দমন’ ও ‘ভয় দেখাতে’ আবারও দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে। 


সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ