বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

গণভোটে সরকারি চাকুরেদের পক্ষ নিতে মানা করে চিঠি দেবে ইসি

গণভোটে সরকারি চাকুরেদের পক্ষ নিতে মানা করে চিঠি দেবে ইসি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থানে আইনি জটিলতা না থাকলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পক্ষ নেওয়ার সুযোগ না থাকার কথা বলেছেন একজন নির্বাচন কমিশনার।


একই সঙ্গে গণভোটের প্রচারে সরকারি চাকরিজীবিদের বাধা না থাকলেও ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এর পক্ষালম্বন করা থেকে বিরত থাকতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।


সরকারি চাকরিজীবিদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালানোর মধ্যে এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।


প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের উপদেষ্টারাও হ্যাঁ ভোটের প্রচারাভিযান করছেন।


পাশাপাশি সরকার গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের বোঝাতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে বললে, এ প্রচার হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, যা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।


ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬০০ সহকারী রিটার্নিং অফিসার, সহস্রাধিক নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের কাজে যুক্ত হবেন আট লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।


নির্বাচন কমিশন বলছে, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ ভোটের কাজে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা গণভোটের বিষয়ে প্রচারে বাধা নেই। তবে কোনো পক্ষে (হ্যাঁ বা না) অবস্থান জানাতে পারবেন না।


বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা একটা চিঠি লিখব সরকারকে (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেবে ইসি সচিবালয়)। এ বিষয়ে যথাযথ বিভাগ ব্যবস্থা নেবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি যে কেউ গণভোট বিষয়ে সচেতন করতে পারবে বা প্রচার করতে পারবে। হ্যাঁ বা না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বলতে পারবেন না।


তিনি বলেন, উপদেষ্টারা কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন, তাদের গণভোটের পক্ষালম্বনে কোনো বাধা নেই।


আইন অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কাজে যুক্ত থাকা কোনো কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে ভোট চাইলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ।


গণভোটে অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২১ ধারা ও গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ এর ৮৬ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রে কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটের বিষয়ে জনগণকে অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন।


অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, তবে তিনি গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বা বিপক্ষে না ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। কেননা এধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।


গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ২১ এবং আরপিও’র ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেছেন, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২১ ধারা ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ বিধানবলী তুলে ধরে এ চিঠি দেওয়া হবে।


গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধরায় অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি বিষয়ে বলা হয়েছে- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।


আরপিও ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করিবার উদ্দেশ্যে তাহার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড, এবং অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবেন।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ