বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬

জামায়াতের আমির বে-পর্দা মেয়েদের পাশে বসিয়ে সেলফি তোলেন: চরমোনাই পীর

জামায়াতের আমির বে-পর্দা মেয়েদের পাশে বসিয়ে সেলফি তোলেন: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমীর ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুফতী রেজাউল করীম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বলে দিয়েছেন, তারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ চালাবেন না। জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীও বলেছেন, জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী দল নয়। কৃষ্ণ নন্দী সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তরে বলেছেন, আপনারা এটাকে ইসলামী দল বলে ছোট করেন কোনো? কর্ণেল আলি। যিনি জামায়াতের জোটে আছেন তিনিও বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির সাফ বলে দিয়েছেন, তারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ চালাবে না।


বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মহিলা বিএম কলেজ মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর।

তিনি বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগ বারবার বলেছে আমাদের দেশে কোনো জঙ্গি নেই। কিন্তু জামায়াতের নায়েবে আমির আবু তাহের আমেরিকার দূতাবাসে বসে আমাদের দেশে জঙ্গি আছে এটা প্রমাণ করার জন্য ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসাবে তুলে ধরেছেন।

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী আন্দোলনকে উগ্র বলা হয় কেন? আমরা তো এই কথা বলতে পারি না— জামায়াতের আমির যে রকম বলেছিল, ‘এই ছেলেরা সরো, মেয়ে বন্ধুরা এখন তোমরা আসো’।


“চারপাশে বসিয়ে সেলফি তোলে এই মুরুব্বি মানুষ— বেপর্দা মেয়েদের সাথে; এখন এটা তো ইসলামী আন্দোলন পারে না। আচ্ছা মেয়ে এবং ছেলেদের ভেতরে চলার পার্থক্যটা কি আমরা করছি, না আল্লাহ করছে?”


তিনি বলেন, “আপনার জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাহেব, সে তো আপনারা জানেন এই আমেরিকা দূতাবাসে বসে সেখানে ‘আমাদের দেশে জঙ্গি আছে’—এইটা প্রমাণ করার জন্য ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসেবে সেখানে উপস্থাপন করেছে।

“কিন্তু আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক—কেউ কিন্তু কখনোই— যতোই আমেরিকা-ভারত বারবার চেয়েছিল যে ‘আমাদের দেশে জঙ্গি আছে’ এইটা প্রমাণ করার জন্য; কিন্তু আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক কোনোদিন এটা স্বীকার করে নাই, বলে নাই যে, ‘আমাদের দেশে জঙ্গি আছে’। বারবার বলেছে, ‘আমাদের দেশে কোনো জঙ্গি নাই, আমাদের দেশে কোনো উগ্রপন্থি নাই’।

“কিন্তু আজকে আফসোস ইসলামের নাম দিয়ে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সে যাইয়া ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে উগ্রবাদী জঙ্গিবাদী আমেরিকার কাছে বলে আসে।”


সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা কি আসলে জঙ্গিবাদী? আমরা কি উগ্রবাদী?”


সমস্বরে ‘না’ উত্তর এলে চরমোনাই পীর বলেন, “আজকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আজকে প্রায় ৩৮ বছর শেষ হচ্ছে। এই ৩৮ বছরের ভেতর আমাদের কার্যক্রম আপনারা দেখেছেন, আমাদের ভেতর কোনো উগ্রতা ছিল?”


উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘না’ উত্তর দেন।

রেজাউল করীম বলেন, “আপনারা দেখেছেন ৫ অগাস্টের পরে যখন এই দেশের ভেতর অরাজকতা চলছে, তখন কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের তারা কিন্তু তাদের জান-মাল-ইজ্জত-বাড়িঘর সহ হেফাজতের জন্য আমরা পাহারাদারদের দায়িত্ব পালন করেছি। পাহারাদারির দায়িত্ব পালন করেছি।”


নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে যে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য’ গড়ে ওঠে, তার সূচনা ঘটে ধর্মভিত্তিক আট দলের যুগপৎ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।


পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে শুরু হয়েছিল সেই যুগপৎ আন্দোলন।


তবে শেষ পর্যন্ত জোটে না গিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া’ এবং ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া’র কথা বলেছিল দলটি।


ইসলামী আন্দোলনের আমির হাতীবান্ধায় বলেন, “অভ্যুত্থানের পরে আমরা চেয়েছিলাম যে, ইসলামী নীতি আদর্শটা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে এ দেশের মানুষ সংখ্যালঘুসহ তারা কিন্তু একটা শান্তি যেটা—আমরা সর্বত্র বাস্তবে দেখতে পাবো। কথা ঠিক কি না?


“সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে যখন আমরা সমঝোতা করেছিলাম, সেখানে জামায়াতে ইসলামসহ অনেক দল ছিল; কিন্তু আমরা কী দেখলাম?


“এখন জামায়াতে ইসলাম নাম দিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, জামায়াতের আমির পরিষ্কার বলেছে যে, তারা ইসলামের নীতি আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাবে না। কথা ঠিক না?”


সমস্বরে উত্তর আসে ‘ঠিক’।


চরমোনাই পীর বলতে থাকেন, “তারপর হিন্দু—তারা যে প্রার্থী দিয়েছে কৃষ্ণ নন্দী, তাকে যখন সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিল; তখন তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলাম তো ইসলামী দল না। এই আপনারা এটাকে ইসলামী দল বলে এতো ছোট করেন কেন?’ আপনারা শুনেছেন কি না জানিনা।


“কর্নেল অলি আহমেদ এখন জামায়াতের নেতৃত্বের লোকে আছে, তিনি পরিষ্কার বলেছেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছে, তারা ইসলামের নীতি আদর্শ-শরীয়া অনুযায়ী দেশ চালাবে না’।”


নিজেদের প্রার্থী মুহাম্মদ ফজলুল করিম শাহারিয়াকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে হাতা পাখার প্রতীকে ভোট চান রেজাউল করীম।


লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখার মার্কার প্রার্থী মুফতী ফজলুল করীম শাহারিয়ারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।


সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ