বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ২৩

ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ২৩

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যে এই দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জুইজ দে ফোরা শহর, যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।


মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সেখানে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা প্রশিক্ষিত উদ্ধার কুকুর নিয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির পর এখনও ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।


স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সি লিভিয়া রোসা বলেন, আমরা গত রাত (সোমবার) থেকেই এখানে আছি, কেউ মাটির নিচে বেঁচে আছে কি না তা দেখার জন্য।’ তিনি জানান, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। ‘আশাই এখন শেষ ভরসা।


এদিকে দেশটির আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলবে।


কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে ভেসে আসা কাদা ও পলিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। নদীর পানি স্বাভাবিক গতিপথ ছেড়ে শহরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।


এ ঘটনায় অন্তত ৪৪০ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কাছের শহর উবা-তেও আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।


জুইজ দে ফোরার মেয়র মার্গারিদা সালোমাঁও জানিয়েছেন, এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক বাড়িঘর ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, রাতে বৃষ্টির সময় অনেক মানুষ ঘরের ভেতরে ছিলেন।


উদ্ধার বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর দেমেত্রিয়াস গুলার্ত জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, আমাদের এখনও আশা আছে।


মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের উদ্ধার বিভাগের অন্তত ১০৮ জন সদস্য জুইজ দে ফোরায় এবং ২৮ জন উবায় উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।


ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দুর্গতদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা এবং পুনর্গঠনে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা দেব।


মেয়র সালোমাঁও আরও জানান, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে—যা ছিল তীব্র, বিধ্বংসী ও অব্যাহত। এটিকে তিনি তার দায়িত্বকালীন ‘সবচেয়ে দুঃখজনক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, আমরা এখনও জীবন রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন