শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ধামরাইয়ে ৩ মাজারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার নেই, কার্যক্রম বন্ধ দুটির

ধামরাইয়ে ৩ মাজারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার নেই, কার্যক্রম বন্ধ দুটির

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে ঢাকার ধামরাইয়ে তিনটি মাজারে হামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় তিনটি মামলা হলেও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হামলা পরবর্তী একটি মাজারের কার্যক্রম ফের সচল হলেও বন্ধ হয়ে গেছে অপর দুটির। পুলিশ ও মাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানা গেছে।


২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুন নালাই এলাকায় শুকুর আলী শাহ ফকিরের মাজারে ‘শরিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ জন্য প্রথমে ওরশ কার্যক্রম বন্ধ ও পরে ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। এ সময় মাজারের ভেতরে থাকা দুটি কবর ও একটি টিনের ঘর ভাঙচুর করা হয়। আরেকটি ঘরের বেড়ার টিনও ভাঙা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২৪ জানুয়ারি ভুক্তভোগী পরিবার ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৭০০-৮০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ধামরাই থানায় মামলা করেন।


২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় কালামপুর-সাটুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে বুচাই পাগলা (রহ.) মাজারে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মাজারে তাণ্ডব চলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।


ওই ঘটনায় প্রায় ছয় মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ঢাকার এক আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানার ওসিকে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। 


এছাড়া ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় ‘বরকত মা’ মাজারে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে।


এক মাজারে কার্যক্রম সচল, বন্ধ দুটি

হামলার শিকার তিনটি মাজারে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাটুলিয়া এলাকায় বুচাই পাগলার মাজারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভাঙচুরের শিকার মাজারের কবরস্থান ও আশ্রমসহ পুরো মাজারের এলাকাটিরই সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করেও কোনো হুমকি নেই বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।


বুচাই পাগলার মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‍“ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ তদন্ত করেছে। আমরা যাদের চিনি নাম বলেছি, এসকেভেটরের চালকের ঠিকানা বলেছি। ভিডিওতেও অনেককে চেনা যায়। যখন হামলা হয়, আমরা মামলা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তখন মামলা না নিয়ে বলে আমরাই দৌড়ের ওপরে আছি। তবে, বর্তমানে আমরা মাজার সংস্কার করেছি। আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা চাই ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”


উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের অর্জুন নালাই এলাকার শুকুর আলী শাহ ফকিরের মাজার এখনো জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় দেখা যায়। ভাংচুরের পর প্রায় ১৫ মাস পরও মাজারটি সংস্কার করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।


মাজারের খাদেম আক্কাস আলীর ভাগ্নে মনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার মামাকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ মামলা করায়। কিন্তু আমার মামা দরিদ্র মানুষ, তিনি কিভাবে মামলা পরিচালনা করবেন? পরবর্তীতে কেউ কেউ মামলাটি মীমাংসার কথা বলেন, না হয় পরবর্তীতে আরো সমস্যা হবে হুমকি দেন। সবমিলিয়ে আর বিষয়টি নিয়ে কিছু করতে পারিনি আমরা। সেভাবেই আছে। আমরা তো নামসহ মামলা করেছিলাম। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এই বছর জানুয়ারি মাসে আমাদের ওরশ ছিল। কিন্তু আমরা সেই ওরশ শুধু মিলাদ ও খাবার বিতরণ কার্যক্রম করেই শেষ করেছি। রাতের গানের আয়োজন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আমরা তো ছোট দরবার, আমাদের ওরকম টাকা পয়সা নাই, তাই কবরও আর ঠিক করতে পারিনি। বিচার আর কি চাইব, বিচার আল্লাহ করবেন।”


অন্যদিকে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় ’বরকত মা’ মাজারটিতে গিয়ে এটির পরিচালনা সংশ্লিষ্ট কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। 


মাজারটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট কক্ষের মাজারটি ভাঙচুরের চিহ্ন নিয়ে এখনো একইভাবে রয়েছে। ইট, পাথরগুলোতে ময়লার আস্তরণ জমে রয়েছে। হামলার পর এটির কার্যক্রম আর সচল হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।


গ্রেপ্তার নেই কেউই

মাজারে হামলার ঘটনায় করা মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে কথা হয় ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ওই ঘটনাগুলোয় মামলা হয়েছে। তবে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামলাগুলোর তদন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে কোনো মাজারের বিষয়েই কোনো হুমকি নেই।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন