নেট্জ পাটর্মনারশীপ ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড জাস্টিস আয়োজিত “মানবাধিকার, সম্পদে অভিগম্যতা, প্রতিনিধিত্ব ঃ নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের বাস্তবতা ও করণীয় শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আজ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ঢাকার সিরডাপে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা। গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি- বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকলেও সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক প্রথা, আইন ও নীতিমালাসমূহের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার অর্জন, সম্পদে অভিগম্যতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এখনও নানাবিধ কাঠামোগত বাধা বিদ্যমান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে দরিদ্রতার পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতা কাঠামোগত বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এজন্য তারা সেবা আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ে। গবেষণায় আরও বলা হয়, কিছু কিছু এলাকায় সমাজে রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও এক ধরনের সামাজিক সংহতি রয়েছে। এটি সামাজিকভাবে একধরনের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অনেক বেশি সেখানে সামাজিক সংহতি দেখা যায় না এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি, অধিনায়ক, এসপিবিএন ০২, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। তিনি বলেন, মানবাধিকার যেন সবার জন্য সমান হয়। নারীর প্রতি অপরাধ তুলনামূলকভাবে বেশি। অপরাধ কমানোর জন্য সকলের নৈতিকবোধ জাগ্রত করার জন্য কাজ করতে হবে।
আলোচক সঞ্জিব দ্রং তার আলোচনায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্র যেখানে বহু জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ বসবাস করে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, সাংবিধানিক অংগীকার থাকা সত্ত্বেও আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ এখনও নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
র্যাব হেডকোয়ার্টারের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানা বলেন, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে হেল্প ডেস্কে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আইনী সুরক্ষা না পেলে উর্ধ্বতন পর্যায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সামিনা হাফিজ, ডি-নেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান, পল্লী শ্রীর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম।
জাতীয় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, ৬টি জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকতা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন নেট্জ বাংলাদেশের পরিচালক শহিদুল ইসলাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















