সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ছয় দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।


কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।


চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ইরফানুর রহমান বলেন, “গতকাল থেকে আমরা যে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেছি, তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত আছে।


“এছাড়া আজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।”


ছয় দফা দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় গেছে জানিয়ে ইরফানুর বলেন, “আলোচনা শেষে তারপর কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।”


তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সোমবার সকাল থেকে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।


দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি চলায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইরফানুর রহমান বলেন, “ইমার্জেন্সি, আউটডোর ও ওয়ার্ডগুলোতে সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে না। তবে ইন্টার্ন ডক্টররা দায়িত্বে থাকলে সেবা প্রদান যতটা দ্রুত হয়, সেটা স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে না।”


সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়।


ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে- স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন।


এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।


পাশাপাশি বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।


এসব দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।


ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।


এতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।


আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন।


কিন্তু সব দাবি পূরণ না হওয়ায় রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন ডাক্তাররা।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন