স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন, সবই এখন স্মার্টফোনেই সম্পন্ন হয়। তাই দিনে বহুবার ফোন আনলক করা এবং স্ক্রিনে আঙুল ছোঁয়ানোর প্রয়োজন হয়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের পাশাপাশি ভুল পদ্ধতিতে স্ক্রিন পরিষ্কার করার ফলে ফোনের ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা এবং স্মুথনেস ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। অনেকেই মনে করেন দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণেই এমনটা হয়, কিন্তু মূলত স্ক্রিন পরিষ্কারের ভুল অভ্যাসই ফোনের সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্মার্টফোনের ডিসপ্লেতে কারখানা থেকেই একটি অত্যন্ত পাতলা ও স্বচ্ছ স্তর লাগানো থাকে, যাকে ওলিওফোবিক কোটিং বলা হয়। এই কোটিংয়ের কারণে স্ক্রিনে আঙুলের ছাপ, তেল বা ধুলা সহজে বসে না। ফলে নতুন ফোনের স্ক্রিনে আঙুল খুব সহজে চলে এবং ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি স্মুথ হয়। এছাড়া এই স্তরের কারণে একটি নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেই স্ক্রিন খুব সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
অনেক সময় আমরা শার্ট, রুমাল, টিস্যু পেপার বা যেকোনো কাপড়ের টুকরো দিয়ে বারবার ফোনের স্ক্রিন ঘষে পরিষ্কার করি। আবার অনেকে স্ক্রিন পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল বা বিভিন্ন রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার করেন। এভাবে বারবার পরিষ্কার করার ফলে স্ক্রিনের ওপরের ওলিওফোবিক কোটিং ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। একবার এই স্তর নষ্ট হয়ে গেলে স্ক্রিনে দ্রুত আঙুলের ছাপ পড়ে, ব্যবহারের সময় আগের মতো স্মুথ অনুভূতি থাকে না এবং ডিসপ্লেও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিন দীর্ঘদিন নতুনের মতো সতেজ রাখতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। স্ক্রিন পরিষ্কারের জন্য সবসময় মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। তীব্র রাসায়নিকযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিন পরিষ্কারের জন্য তৈরি নিরাপদ সলিউশন ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের টেম্পার্ড গ্লাস বা স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করা বেশ উপকারী। এতে মূল স্ক্রিনে আঁচড় পড়ে না এবং ওলিওফোবিক কোটিংও দীর্ঘস্থায়ী হয়। সামান্য এই সতর্কতা আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, টাচ রেসপন্স এবং স্মুথনেস দীর্ঘকাল বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























