বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

বেঈমানির শাস্তি: কোরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে

বেঈমানির শাস্তি: কোরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে

পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বস্ততা হলো একটি সুস্থ সমাজ ও সম্পর্কের মেরুদণ্ড। পরিবার থেকে শুরু করে ব্যবসা, রাষ্ট্র বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব সবকিছুর ভিত্তিই হলো এই পারস্পরিক বিশ্বাস। আর সেই আস্থার মূলে আঘাত করা বা বেঈমানি (খিয়ানত) করা ইসলামের দৃষ্টিতে এমন এক গুরুতর গুনাহ, যার ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও সহিহ হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে।

সাধারণত বিশ্বাসঘাতকতাকে আমরা কেবল বড় কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে চিন্তা করি। কিন্তু ইসলামে এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। কারও আমানতের খিয়ানত করা বা তার ন্যায্য অধিকার নষ্ট করাও বেঈমানির অন্তর্ভুক্ত।


১. বিশ্বাসঘাতককে পছন্দ করেন না আল্লাহ

পবিত্র কোরআনে বেঈমানি বা খিয়ানতকে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি কোনো বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা হজ: ৩৮)

এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আরও নির্দেশ দিয়েছেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনেশুনে নিজেদের আমানতেরও খেয়ানত করো না।’ (সুরা আনফাল: ২৭) প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়েদা: ১) এসব আয়াত থেকে পরিষ্কার হয় যে, বেঈমানি আল্লাহর অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ এবং এটি একজন মুমিনের আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।


২. মুনাফিকির আলামত

বিশ্বাসঘাতকতা মানুষের চরিত্রে মুনাফিকির বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি- সে কথা বললে মিথ্যা বলে, অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এর একটি থাকবে, তার মধ্যে মুনাফিকির একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে- যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে খেয়ানত করে; কথা বললে মিথ্যা বলে; অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে; আর ঝগড়া করলে সীমালঙ্ঘন করে।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)

সম্পাদক : আবদুল মাতিন