সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাস্তবতা ও করণীয় বিষয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাস্তবতা ও করণীয় বিষয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে “বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক একটি নীতি-পরামর্শ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


আজ সোমবার ২৭ জুলাই ঢাকায় ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহায়তায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।


ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এর কার্যকারিতার ওপর ভয়েস-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যবহারের অযোগ্য পণ্য সংগ্রহ করেনি। এ তথ্যগুলো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর বাস্তবায়নে বিদ্যমান গুরুতর ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে।   


ভয়েস এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা বর্তমান ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আনুমানিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। তিনি আরও জানান, প্রতি বছর ই-বর্জ্য থেকে প্রায় ২০০–২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কৌশলগত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনস্থ কমিটিগুলোতে সদস্যদের সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আরও সুফল পাওয়া সম্ভব।”


চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন খান বলেন, “ইলেকট্রনিক পণ্যগুলোকে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে, যাতে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও বাজারভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে সার্কুলার ইকোনমিতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।”


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় শুধু সেকেন্ডারি তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রাথমিক তথ্যও সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করতে হবে, যাতে ই-বর্জ্যকে একটি মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা যায়।”


ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “একটি সরকারি পরিপত্র জারি করে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং ই-বর্জ্যকে কার্যকরভাবে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।”


বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর আরও শক্তিশালী অঙ্গীকার, নিয়মিত তদারকি এবং বিদ্যমান বাস্তবায়ন-ঘাটতি দূরীকরণে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


সভায় নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রিসাইক্লিং কোম্পানি ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। 

সম্পাদক : আবদুল মাতিন