শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

সবজির বাজারেও অস্বস্তি, হাঁসফাঁস ক্রেতারা

সবজির বাজারেও অস্বস্তি, হাঁসফাঁস ক্রেতারা

মাছ-মাংসের চড়া দামের পর রাজধানীর সবজির বাজারেও তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি। হু-হু করে বাড়তে থাকা দামে বাজারে এসে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন ক্রেতারা। বাজারভেদে দামে সামান্য তারতম্য থাকলেও বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। মাছ ও মাংসের বাড়তি দামের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির এই চড়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের। তবে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।


শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তালতলা বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে সবজির চড়া মূল্যের এই চিত্র দেখা গেছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমেই বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।


সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বাজার করতে আসা মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তালতলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিশু আহমেদ বলেন, ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণের কারণে সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের ক্রেতা হাফিজ উদ্দিন জানান, আগে ১০০ টাকায় কয়েক পদের সবজি কেনা গেলেও এখন এক কেজি সবজি কিনতেই ৮০ থেকে ১০০ টাকা লেগে যায়। ফলে এক হাজার টাকার বাজারে সামান্য পণ্য নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।


অন্যদিকে বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির পেছনে বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণকে দায়ী করছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান জানান, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে এবং মোকাম পর্যায় থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তবে পাইকারি বাজারে সঠিক নজরদারি করা গেলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন