মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে আসতে হবে না, ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা

শেখ হাসিনাকে আসতে হবে না, ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা

ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। শেখ হাসিনার আসতে হবে না, সরকার তাকে ‘ধরে’ দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় বলেও মন্তব্য করেন এ উপদেষ্টা।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।


শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার শুধু ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বিষয়টি ব্যবহার করছে- এমন আলোচনা নাকচ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারলি বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এটাকে (শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ) কন্ডিশন (শর্ত) হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা প্রায়ই বলছি—শেখ হাসিনা, আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। যে, উনি এসে আপিল করে আবার তিনি তার যে বিচার হয়েছে, সেটা পুনর্বিবেচনা করাবেন সে সময়ও নেই।’



‘তার মানে ব্যাপারটা এখন এরকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই,’ যোগ করেন তথ্য উপদেষ্টা।



সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা এবং ভারতের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এখন সাম্প্রতিক সময়ে আবার তিনি কিছু মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ভারতের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার সঙ্গে। এটা আনএক্সপেক্টেড (অপ্রত্যাশিত)।’


তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে প্রত্যর্পণের পরের আগ পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এগুলো করতে না পারেন, আমরা এক্সপেক্ট (প্রত্যাশা) করেছিলাম। ভারত সরকার এই ব্যাপারে তাকে একটা বার দেবেন। তার স্ট্যাটাসটাও আমরা জানি না যে, তিনি রাইটগুলো আসলে এনজয় করতে পারেন কি না। এগুলোরও ক্লারিফিকেশন নেই।’


‘আমি মনে করি যে, এটা তাদের দিক থেকে সঠিক হচ্ছে না। আর আমরা তাকে আনতে চাইছি প্রত্যার্পণের দাবিটা স্ট্রং। উনি আসুন তিনি নিজে আসুন বা আমরা আনি; আমরা এটা করতেই চাই। এর মধ্যে কোনো কৌশল নেই,’ যোগ করেন উপদেষ্টা।


দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আর ইন্ডিয়ান সরকার কেন এই যে সম্পর্কটা যে জায়গায় চলে গিয়েছিল তাকে উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ কিন্তু ইমিডিয়েটলি তারা নিতে পারতেন। সেটা হচ্ছে, তার মুখ বন্ধ রাখা।’


উপদেষ্টা সাংবাদিকদের ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সেটা কেন নিচ্ছেন না, আমি আশা করব আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের এখানকার হাইকমিশনার যিনি আছেন তাকে এটুকু জিজ্ঞেস করুন যে—শেখ হাসিনার ব্যাপারে তো আমাদের সেনসিটিভিটি আছে। তিনি যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন আমাদের জন্য কতটুকু ইরিটেটিং।’


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কতটুকু আমাদের ক্ষুব্ধ করে সেটা তো তাদের বোঝা উচিত। তো আমি আমি এক্সপেক্ট (প্রত্যাশা) করব আপনারা হাইকমিশনারকে এই প্রশ্ন করবেন যে, তারা কি মনে করেন যে এটা একটা পজিটিভ জেসচার (ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি) হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুখে বলছি কিছু কিছু সিগনালও দিচ্ছি। কিন্তু একইসঙ্গে এমন কিছু করছি, যেটা আসলে নেগেটিভ করে ফেলে। শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলন করেছিল, আমাদের যে প্রতিবাদলিপি ছিল সে প্রতিবাদ লিপিতে এই কথাটাই বলা হয়েছে—একটা এনভারনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভারনমেন্ট; আমাকে কনভিন্স হতে হবে, আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ (যুক্ত) করতে চাইছেন।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন