মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন মাসে নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ৫ হাজার

তিন মাসে নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ৫ হাজার

দেশের ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে- এমন হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মাত্র তিন মাসে এ ধরনের ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। একই সময়ে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে- এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি।


অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।


হিসাবের পাশাপাশি বেড়েছে এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণও। মার্চ শেষে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট জমা ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে বড় আমানতের এসব হিসাবে টাকা বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি।


তিন মাসে নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ৫ হাজার

সম্মানি পেতে ইমাম-পুরোহিতদের যেভাবে আবেদন করতে হবে

তবে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটিপতি হিসাবের চিত্র পুরোপুরি একই নয়। জুন শেষে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যক্তি হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০১টি। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। ফলে তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ের কোটিপতি হিসাব বেড়েছে মাত্র ৭১টি।


হিসাব বাড়লেও ব্যক্তি পর্যায়ের এসব হিসাবে জমা অর্থ কমেছে। মার্চ শেষে ব্যক্তিশ্রেণির কোটি টাকার বেশি আমানতের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ের বড় আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।


সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগে স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে না গিয়ে হাতে থাকা অর্থ ব্যাংকে রাখছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবে বড় অঙ্কের আমানত জমা হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও রয়েছে। তাই সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব এবং এসব হিসাবে জমা অর্থ বাড়ার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন