বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হলে জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য গণভোটের বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটিও সেভাবেই বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।”


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি আরো বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আমরা এখানে ধারণ করব, যাতে ভবিষ্যতে গণতন্ত্রকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।”

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে। কেউ যদি নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে সনদ বাস্তবায়নের দাবি করে, সেই জায়গায় ঐকমত্য হয়নি। বরং সবাই স্বাক্ষর করেছেন এবং জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদটি স্বীকৃত হয়েছে।”


তিনি বলেন, “আমরা সেই জুলাই জাতীয় সনদ অবশ্যই যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, নোট অব ডিসেন্টসহ সেভাবেই বাস্তবায়ন করব।”


তবে শুধু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মধ্যেই সাংবিধানিক সংস্কার সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এর বাইরে আরো অনেক বিষয় সংবিধানে সংশোধন করতে হবে। নির্বাচনি  ইশতেহারে থাকা বিষয়, বিভিন্ন জনদাবি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে আসা প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সবকিছু ধারণ করে সংসদে একটি বিল উপস্থাপনের জন্য প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”


গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আগে যে গণভোট হয়েছে, সেটি ছিল আইনি গণভোট। কিন্তু বর্তমান সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সেটি হবে সাংবিধানিক গণভোট।”


তিনি বলেন, “সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮ অনুচ্ছেদ, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন ও সংশোধনের বিষয় আসবে।”


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান তুলে দেওয়া হয়েছিল। এর বৈধতা ছিল না এবং সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন।”


তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন, সংবিধানে তো গণভোট নেই, আমরা কেন গণভোটের কথা বলছি। তারা সঠিক কথা বলছেন না।”


গণভোটের বিধান নিয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইনের একটি নীতি রয়েছে, যাকে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ বলা হয়।”


তিনি বলেন, “চন্দ্রগ্রহণ যখন হয়, গ্রহণটা সরে গেলে চাঁদটা আবার দেখা যায়। এটাকে বলা হয় ডকট্রিন অব ইক্লিপস।”


পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিল করা হলেও আদালত সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের রায়ের আলোকে সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টি সংবিধানে ধারণ করা হবে।”


তিনি বলেন, “আইনের একটা জটিল প্রশ্ন আছে। যতদিন পার্লামেন্টে আবার সংবিধানে ধারণ না করবে, ততদিন পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলা যাবে না। তবে বিচার বিভাগ তাদের যে রায় দিয়েছে, সেই রায় অনুসারে সংবিধানে আমরা এই সংশোধনীতে সেটা ধারণ করব।”


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কেউ যাতে সহজে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্যও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার কথা জানান তিনি।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পর ভবিষ্যতে কেউ এটি পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের কাছে যেতে হবে—এমন গণভোটের বিধান রাখা হবে।”


তিনি আরো বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় আমরা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে পরিবর্তন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ওইটা পরিবর্তন করলেও ভবিষ্যতে জনগণের কাছে যাতে যেতে হয়, সেটা গণভোটের বিধান রাখতে হবে।”


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে একটি সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী প্রস্তাব করা হবে। এই পরিবর্তনগুলো এবং এই সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো আমরা সংবিধানে নিয়ে আসলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আমরা গণভোট দেব।”


একটি সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি সমৃদ্ধ সাংবিধানিক সংশোধনী আনব।”

সম্পাদক : আবদুল মাতিন