গেল অক্টোবর মাসে রেকর্ড ১৭৪ জনের মৃত্যুর পর আবারও চোখ রাঙানি দিচ্ছে ডেঙ্গু। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭০ জন।
সোমবার (২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছে রেকর্ড ১৭৪ জন।
এ ছাড়া, সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৯৭০ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৯০০ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫২ জন, খুলনায় ২৯৪ জন, বরিশালে ১৮৩ জন, রাজশাহীতে ১৫৩ জন, ময়মনসিংহে ৯৫ জন, রংপুরে ৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
ডেঙ্গু কী
ডেঙ্গু হলো ‘ফ্লু’ এর মতো একটি রোগ, যেটা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশির ভাগ মানুষের কোনো আলাদা কোন উপসর্গ থাকে না। তবে এটি জ্বরজনিত অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে। এমনকি ডেঙ্গুতে মৃত্যুও ঘটতে পারে।
আপনি কীভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন
ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমিত কোনো এডিস মশা কামড় দিলে আপনার ডেঙ্গু হতে পারে।
এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়, বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পরের ২ ঘণ্টায়। তাই এই দুই সময়ে এডিস মশার কামড় খেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
আপনার বাড়ি, আশপাশের এলাকা, কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা প্রতিদিনের যাতায়াতের পথে কোথাও যদি পানিভর্তি কোনো পাত্র থাকে কিংবা বৃষ্টির পানি জমে থাকে, তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কারণ এডিস মশা পানিতে বংশবিস্তার করে এবং অল্প পানিতেও ডিম পাড়তে পারে। যেমন বালতি, পুরোনো গাড়ির টায়ার, জমে থাকা পানি এবং এমনকি বোতলের ঢাকনায়ও তারা ডিম পাড়তে পারে।
ডেঙ্গু সরাসরি একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষে ছড়ায় না। তবে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সংক্রমণের প্রথম সপ্তাহে তার রক্তে এই ভাইরাস থাকে। এ সময়ে কোনো মশা তাকে কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সেই সংক্রমিত মশা অন্য মানুষকে কামড়ালে তার/তাদের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ডেঙ্গু হলে গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় তাদের শিশুর শরীরেও এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















