বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরও একটি রক্তঝরা ও কলঙ্কময় দিন, শোকাবহ জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপদ প্রকোষ্ঠে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। আজ গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর ভালোবাসায় দেশ-বিদেশে স্মরণ করা হচ্ছে এই মহান শহীদদের। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করেছে। শহীদদের স্মরণে উত্তোলন করা হয়েছে শোকের প্রতীক কালো পতাকা, আর নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ধারণ করেছেন কালো ব্যাজ।
আজকের এই বিশেষ দিনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন মিলনায়তনসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় চার নেতার জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তাদের অপরিসীম ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর উদ্যোগেও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রবাসের মাটিতে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন বহু প্রবাসী বাঙালি। সকালে বনানী কবরস্থানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুণ্যস্মৃতিতে এবং রাজশাহীতে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকার গঠন করে অত্যন্ত সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন এই চার নেতা। তাদের দক্ষ নেতৃত্ব ও অসীম সাহসিকতা ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব ছিল। কারান্তরালে ঘাতকের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও তারা আপস করেননি, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন দেশের প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য। ইতিহাসের এই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতির বুক থেকে চারজন অভিভাবককে কেড়ে নিয়েছিল। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের আদর্শ ও আত্মত্যাগ আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে। দৈনিক বঙ্গলোক-এর পক্ষ থেকে এই মহান চার নেতার স্মৃতির প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম



















