আজ ৪ নভেম্বর প্লেব্যাক সম্রাট খ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের ৭১তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা গানের কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পী। এন্ড্রু কিশোরের প্রয়াণের পর এ বছর তাঁর পঞ্চম জন্মদিন। বিশেষ দিনে সহকর্মী শুভানুধ্যায়ীদের অনেকে স্মরণ করছেন তাঁকে। এ তালিকায় রয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে গায়কের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে হানিফ সংকেত লিখেছেন, ‘শিল্পী এন্ড্রু কিশোর— একজন আদর্শ মানুষ। খ্যাতির চাইতে যাঁর কণ্ঠের দ্যুতিই ছিল বেশি। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও অম্লান, কালজয়ী।’
তিনি যোগ করেন, “বাংলা গানের ঐশ্বর্য এন্ড্রু কিশোর ছিলেন ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী। শুধু ‘ইত্যাদি’র জন্যই তিনি গেয়েছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক গান, যার অধিকাংশই দেশাত্মবোধক। তাঁর সেই প্রাণস্পর্শী কণ্ঠের দেশপ্রেম আজও আমাদের আলোড়িত করে। মৃত্যুর আগে টিভিতে তাঁর শেষ গানটিও গেয়েছিলেন ‘ইত্যাদি’তে। আজ তাঁর ৭১তম জন্মবার্ষিকী। আমাদের মাঝে না থাকলেও তিনি বেঁচে আছেন তাঁর প্রতিটি সুরে, গানে আর শ্রোতাদের হৃদয়ের অন্তিম গভীরে। গানের মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ওপারে ভালো থাকুন, বাংলা গানের এই চিরসবুজ ঐশ্বর্য—এই কামনা করছি।”
১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করেন এন্ড্রু কিশোর। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘তুমি আমার জীবন’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’ ও ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’—এখনো শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন।
এন্ড্রু কিশোরের বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ ও মা মিনু বাড়ৈ রাজশাহীর বুলনপুর মিশন গার্লস হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর মা ছিলেন সংগীতানুরাগী; প্রিয় শিল্পী ছিলেন কিশোর কুমার। প্রিয় শিল্পীর নাম অনুসারেই সন্তানের নাম রাখেন ‘কিশোর’। মায়ের স্বপ্ন পূরণে সংগীতের পথে এগিয়ে যান এন্ড্রু কিশোর।
আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ নেন তিনি। স্বাধীনতার পর নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন। পরে চলচ্চিত্রের গানে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা গানের এক পরিচিত ও প্রিয় নাম।
দীর্ঘ ১০ মাস ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০২০ সালের ৬ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন এন্ড্রু কিশোর। তাঁর কণ্ঠের অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে, ভালোবাসায় ও সংগীতের ভুবনে বেঁচে আছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























